Drowning

নিষেধাজ্ঞার উপেক্ষা করেই উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে নেমে মৃত্যু তরুণের, তাজপুরে তলিয়ে যাচ্ছিলেন আরও দু’জন

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উত্তাল সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তাজপুরে মৃত্যু হল ১৮ বছরের এক তরুণের। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জলে নামার পর তলিয়ে যাচ্ছিলেন আরও দু’জন, তাঁদের উদ্ধার করেন নুলিয়ারা।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, তাজপুর
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৩

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতেও। দিঘা, তাজপুর, মন্দারমণিতে সমুদ্র ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে প্রাণ গেল ১৮ বছরের এক তরুণের। জলের তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দু’জন। শেষ পর্যন্ত কর্তব্যরত নুলিয়াদের তৎপরতায় তিনজনকেই উদ্ধার করা হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক এক তরুণকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানা এলাকার তাজপুরের মল্লিকা বিচ সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, রামনগর থানা এলাকার কয়েকজন সেখানে বনভোজন করতে গিয়েছিলেন। সেই দলেরই তিন সদস্য গোবিন্দ পণ্ডা, সবুজবরণ সাউ ও বিকাশচন্দ্র জানা অন্যদের বারণ উপেক্ষা করে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে গত সোমবার থেকেই দিঘা ও মন্দারমণির সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করে। মঙ্গলবার সকালেও উপকূলে আছড়ে পড়তে দেখা যায় বড় বড় ঢেউ। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে নামার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও তা অমান্য করে জলে নামেন ওই তিনজন।

প্রথমবার তাঁদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে কর্তব্যরত নুলিয়ারা নিরাপদ জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাঁদের নজর এড়িয়ে ফের তিনজন সমুদ্রে নেমে পড়েন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকলে নুলিয়ারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তিনজনকেই জল থেকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ১৮ বছরের গোবিন্দ পণ্ডাকে মৃত ঘোষণা করেন। ২২ বছরের সবুজবরণ সাউকে কাঁথি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৩৫ বছরের বিকাশচন্দ্র জানাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বঙ্গে না পড়লেও সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। উত্তাল সমুদ্রের কারণে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সোমবার রাতের মধ্যেই ট্রলার নিয়ে মৎস্যজীবীদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার জেরে ইলিশ সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মৎস্যজীবীরা।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করে দিঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুরে পুলিশের তরফে মাইকিং করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের দ্রুত ফিরে আসার পাশাপাশি পর্যটকদেরও সমুদ্র থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।


Share