Kolkata Airport

কলকাতা বন্দরের চাপ কমাতে বলাগড়ে মিনি বন্দর, সংযোগকারী রাস্তা ও সেতুর কাজের সূচনা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি-সহ পূর্ত দফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বলাগড়
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২৫

কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের উপর থেকে চাপ কমাতে হুগলির বলাগড়ে গড়ে উঠতে চলেছে মিনি বন্দর। সেই প্রকল্পকে ঘিরে এ বার শুরু হল পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ। সোমবার, দুর্গাপুজোর দ্বিতীয়ার আবহে বলাগড়ের বারুইপাড়ায় মিনি বন্দরের সংযোগকারী রাস্তা ও সেতু নির্মাণের জন্য ভূমিপুজো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি-সহ পূর্ত দফতর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরা।

গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরে এসে বলাগড়ের এই মিনি বন্দর প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বার প্রকল্পের সংযোগকারী রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর চরে তৈরি হবে এই মিনি বন্দর। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ১৯৯৬ সালে সিইএসসির বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য ওই এলাকায় জমি নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কিছু জমি ছিল পোর্ট ট্রাস্টেরও। সেই সময় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে রাস্তা ও সেতুও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেগুলি ধুয়ে যায়। পরে বাতিল হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা। তার পর থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল ওই এলাকা। এ বার সেখানেই নতুন করে গড়ে উঠতে চলেছে মিনি বন্দর।

প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণেও বন্দর তৈরির ক্ষেত্রে শ্রীপুর চর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গঙ্গা থেকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি একটি খাঁড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে ফের গঙ্গায় মিশেছে। মাঝখানের চরেই তৈরি হবে বন্দর। সেখানে পণ্যবাহী জাহাজ ও কন্টেনারবাহী জাহাজের যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে কলকাতা বন্দরের উপর চাপ কমার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষিপ্রধান বলাগড়ে এই প্রকল্প ঘিরে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, গঙ্গার ভাঙন রোধেও প্রকল্পটি সহায়ক হতে পারে বলে আশাবাদী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু মিশ্র জানান, মিনি বন্দরে একটি পোর্ট টার্মিনাল ও দু’টি জেটি তৈরি হবে। বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্মাণ করা হবে সংযোগকারী রাস্তা। তাঁর কথায়, “এখানে মিনি পোর্ট তৈরি হবে। তার সংযোগকারী রাস্তারই সোমবার ভিতপুজো হল। সমস্ত জমি আমাদের হাতে রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়ে গিয়েছে। মোট ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প। প্রত্যক্ষ ভাবে দেড় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষ ভাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার বলেন, এই প্রকল্প এলাকার মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে, অথবা তার আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।

হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, প্রকল্পে প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তাঁর কথায়, “অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যাঁরা বাইরে কাজ করছেন, তাঁরা ফিরে আসতে পারবেন। বন্দরের মাধ্যমে রেল, জলপথ ও সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।” তিনি আরও জানান, প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে এবং ৯০০ একর জমি নিয়ে বন্দর গড়ে উঠবে। দু’বছরের মধ্যেই বন্দর চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


Share