Murder Case

পরকীয়ার টানে গৃহত্যাগ, সন্তানকে দেখানোর নাম করে ডেকে এনে স্বামীকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ স্ত্রী ও প্রেমিকের বিরুদ্ধে, থানায় অভিযোগ দায়ের

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সন্তানকে দেখানোর নাম করে স্বামীকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। মৃত তপন দাসের পরিবারের দাবি, ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাঁকে খাওয়ানো হয়েছিল।

মৃতের নাম তপন দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৫

পরকীয়ার টানে বাড়ি ছেড়েছিলেন স্ত্রী। অভিযোগ, সন্তানকে দেখানোর নামে শ্বশুড়বাড়িতে ডাকা হয়। বিষ মেশানো ঠান্ডা পানীয়ের খাইয়ে খুন করা হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

মৃতের নাম তপন দাস (৪৩)। নদিয়ার শান্তিপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বাগচীর বাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ২৩ বছর আগে মনিকা দাসের সঙ্গে তপনের বিয়ে হয়। মনিকা হরিপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। মৃত তপন দাস পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তাঁদের ১৩ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তপনের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। দু’বেলা খাবার জোটেতে পারতেন না। এমনটাই জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা।

কিন্তু, সম্প্রতি মনিকার সঙ্গে তারক বিশ্বাস নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। তা পরবর্তীতে পরকীয়ার সম্পর্কে পরিবর্তন হয়। সেই টানে স্বামী তপন দাসকে ছেড়ে বাড়ি থেকে চলে যান। তারক বিশ্বাস বাগআঁচড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। স্বামীর ঘর ছেড়ে সন্তান ও ওই যুবককে নিয়ে মনিকা বাগআঁচড়ায় একটি বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। প্রায় আট মাস ধরে মনিকা ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

তপনের পরিবারের দাবি, সম্প্রতি মনিকা নাকি স্বামী তপনকে জানিয়েছিল যে তিনি ফের সংসারে ফিরে আসতে চান। নিজের সন্তানকে না দেখতে পাওয়ার যন্ত্রণা তপনের মধ‍্যে ছিল বলেই জানায় তাঁরা। অভিযোগ, সেটাকেই হাতিয়ার করা হয়েছে। ছেলেকে দেখানোর নাম করে শ্বশুরবাড়িতে ডাকা হয়। সেইসঙ্গে জরুরি কিছু কাগজপত্রের কাজ আছে বলেও জানানো হয়। মনিকার কথায় বিশ্বাস করে তপন হরিপুরে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় দেওয়া হয়। আর তাতেই বিষ মেশানো ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ করছে।

এরপর রাতে তপন বাড়িতে ফিরে আসেন। এসেই তপন অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’দিন ধরে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তপনের পরিবারের তরফে স্ত্রী মনিকা দাস ও প্রেমিক তারক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখে খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট না এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলেই পুলিশ মনে করছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।


Share