Nepal Flash Flood

মেয়ে মারা গিয়েছিল পথ দুর্ঘটনায়, বাবা-মা নেপালে গিয়ে নিখোঁজ, উত্তরপাড়ার বাড়িতে ঝুলছে তালা

নেপালের হড়পা বানে নিখোঁজ হুগলির উত্তরপাড়ার দম্পতি ক্ষিতিশ ও মমতা বিশ্বাস। গত ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিলেন তাঁরা, বুধবার থেকে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই। একইভাবে নেপালে নিখোঁজ তারকেশ্বরের পর্যটক স্নেহাশীষ দত্তও।

দম্পতির বাড়িতে ঝুলছে তালা
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩৩

হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। সেখানে আটকে পড়েছেন উত্তরপাড়ার এক দম্পতি। তিনি মানস সরবরে গিয়েছিলেন। তাঁর কোনও খোঁজ মিলছে না বলেই প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন।

দম্পতির নাম ক্ষিতিশ বিশ্বস ও মমতা বিশ্বাস। তিনি হুগলির উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী পানপাড়া বাইলেনের বাসিন্দা। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, তাঁর একটি কন‍্যা ছিল। ১৮ বছর বয়সে পথদুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হন। ক্ষিতিশবাবু রেলে চাকরি করতেন। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেচ্ছাবসর নেন। সন্তানহীন দম্পতি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। দম্পতি মানস সরবর যাবেন বলে ঠিক করেছিলেন। সেই মতো কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাগজপত্র তৈরি হওয়ার পরে গত ২১ অগস্ট বাড়ি কৈলাশ যাত্রায় বের হন। 

কিন্তু সেখানে হড়পা বানে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।তছনছ হয়ে গিয়েছে সবকিছু। তার পরে থেকেই দম্পতির সঙ্গে কিন্তু তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িতে তালা ঝুলছে। বুধবার তাঁদের বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। কিন্তু বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। 

অপর দিকে, নেপালে আটকে পড়েছেন তারকেশ্বরের এক পর্যটক। তাঁর নাম স্নেহাশীষ দত্ত। বুধবার থেকে তাঁরও কোনও খোঁজ না মেলায় পরিবারের চিন্তা বেড়েছে। তিনিও গত ২১ অগস্ট মানস সরোবর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। নেপাল হয়ে তিব্বতে যাওয়ার কথা ছিল। গত ২২ অগস্ট কাঠমান্ডু পৌঁছোন।

পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, বুধবার সকালে স্নেহাশীষের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছে। তিনি সেই সময় জানিয়েছিলেন, মানস সরবর যাওয়ার পথে নেপাল ও চীন সীমান্তে ছিলেন। হড়পা বানের ঘটনার পর থেকে আর ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি বলেই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। 

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি সেই দলেই ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, স্নেহাশীষের সঙ্গে ট্যুর ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যালও ছিলেন। তবে খোঁজ না মেলায় উদবিঘ্নে দিন কাটছে দত্ত পরিবারের। পরিবারের আশঙ্কা, বিপর্যয়ের সময় ঘটনাস্থলেই তিনি ছিলেন। অন্য দিকে, পরিবারের সদস্যরা ভারতীয় দূতাবাস এবং রাজ্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জানিয়েছেন, “৩২ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা এখনও সম্ভব হয়নি। ৩২ জন কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ এলাকায় থাকেন। ২৭ জন রাজ‍্য পুলিশের অধীনস্থ এলাকায় থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছি। মুখ‍্যসচিবের দফতর নেপালের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছে।” 

শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত সে দেশে ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। আহত শতাধিক। হড়পা বানে নেপালের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্তের ও পারে থাকা চিনের তিব্বতও। দুই দেশ মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৪৭০ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিভিন্ন দেশের (চীন এবং নেপাল ব্যতীত) নাগরিক। তাঁদের মধ্যে আবার ২৯০ জন ভারতীয়, যাঁদের কারও সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি।


Share