Bomb Blast

চম্পাহাটিতে ফের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, গুরুতর জখম দু'জন, দমকল দেরিতে আসার অভিযোগে বিক্ষোভ

জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে একটি ঘরে বাজি তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের জেরে অ্যাসবেস্টসের ছাউনি উড়ে যায় এবং ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণে ভস্মীভূত ঘটনাস্থল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চম্পাহাটি
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৪:২০

চম্পাহাটিতে ফের বাজি তৈরির ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, খবর পাওয়ার পরেও দমকলের কর্মীরা দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাঁদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে একটি ঘর তৈরি করে সেখানে বাজি তৈরির কাজ চলছিল। সেই ঘরেই আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরটির অ্যাসবেস্টসের চালের একাংশ উড়ে যায়। দেওয়াল-সহ বাকি অংশও পুড়ে যায়। কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে বারুইপুর থানার পুলিশ।

ঘটনার পর স্থানীয়দের বড় অংশ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। ফলে ওই ঘরে কী ধরনের বাজি তৈরি হচ্ছিল বা সেখানে নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ অবশ্য নতুন ঘটনা নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হারালে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের অভিঘাতে অ্যাসবেস্টসের ছাউনি উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকা ইটের গাঁথুনি দেওয়া ঘরটি কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ওই ঘটনায় চার শ্রমিক— গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, রাহুল এবং কিষান অধিকারী—গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতার দু’টি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরে তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়।

ফের একই এলাকায় বাজি তৈরির ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, বেআইনি ভাবে বা যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই বাজি তৈরির কাজ চলছে কি না। বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ওই ঘরে কী ভাবে বাজি তৈরি হচ্ছিল, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।


Share