Baruipur Incident

ইন্দ্রজিৎ মন্ডলকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার অন‍্যতম অভিযুক্ত শামিম, বারুইপুরে গণপিটুনি কান্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত

শনিবার সকালে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাদা, বাপি মন্ডলকে সিভিক ভলিন্টিয়ারের চাকরি দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৭

বারুইপুরে ইন্দ্রজিৎ মন্ডলকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও দু’জন ‘অতৃপ্ত আত্মা’। ধৃতদের মধ্যে এক জনের নাম শামিম আলি খান। শামিম বারুইপুরেরই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। রবিবার দু’জনকে আদালতে হাজির করানো হবে।

গত রবিবার কিশোরীর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সূর্যপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। অভিযোগ, তার মাঝেই ইন্দ্রজিৎ মন্ডল নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কয়েক জন। তার পরে উন্মত্ত জনতা মাঝে ছেড়ে দিয়ে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। সেই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সকালে আরও তিন জনকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত।

রবিবার সকালে ওই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হল। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম শামিম আলি খান। শামিমকে ভিডিয়োতে মারধর করতে দেখা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে শামিম পলাতক ছিল। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শামিমের খোঁজ মেলে। শামিম গণপিটুনির ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে সূত্রের খবর।

শনিবার সকালে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাদা, বাপি মন্ডলকে সিভিক ভলিন্টিয়ারের চাকরি দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়ের অন্নপূর্ণা যোজনার এবং বাবার বার্ধক্য ভাতার ব‍্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি নতুন করে সংস্কারও সরকার করে দিয়েছে।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইন্দ্রজিৎ মন্ডলকে নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। গত সোমবারই তিনি বলেছিলেন, ইন্দ্রজিতকে গণপিটুনি দেওয়ায় নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক দিক রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় দেখেই যে নির্দোষ ইন্দ্রজিতকে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করা হয়েছে, এ দিনের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

গণপিটুনি এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় সোমবার তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার আবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোটে যারা রিজেক্ট হয়েছে তাঁদের উস্কানি থাকতে পারে। চরমপন্থীরাও থাকতে পারে। আমি তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। ভিডিয়োতে যাদের দেখা গিয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে।” গণপিটুনি এবং অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় ২০০ জনকে ভিডিয়ো দেখে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। মুখ‍্যমন্ত্রী বলেন, পিছন থেকে যারা ফোন করে, মেসেজ করে উস্কানি দিয়েছে, পুলিশ তাদের চিহ্নিত করবে। যে রাজনৈতিক দলেরই বা হোক না কেন, পুলিশকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছ।” যারা রেললাইনের ওপর লোহার বিম রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল, তারা রাষ্ট্রপ্রেমী হতে পারে না।”


Share