TMC Leader Arrested

সোমবার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কথা পুলিশের, আগের রাতে সমবায় ব্যাঙ্কে ঢুকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা! গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিঙ্গুর
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৯

সোমবার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কথা ছিল পুলিশের। তার ঠিক আগের রাতে হুগলির সিঙ্গুরে গোবিন্দপুর কৃষি উন্নয়ন সমবায়ে ঢুকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠল ব্যাঙ্কের সম্পাদক কাজি তোসাদ্দেক হোসেনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তাঁকে সিঙ্গুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তোসাদ্দেক একসময় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ সমবায় ব্যাঙ্কের তালা খুলে ভিতরে ঢোকেন তোসাদ্দেক। রাতে ব্যাঙ্কের ভিতরে আলো জ্বলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। ধীরে ধীরে ব্যাঙ্কের সামনে তাঁরা জড়ো হন। এরপর বিক্ষোভ শুরু হয়। তোসাদ্দেককে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভকারীরা ‘চোর, চোর’ স্লোগানও দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে সমবায়ের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সত্যজিৎ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় তোসাদ্দেক-সহ মোট চার জনের নাম জড়িয়েছে। সত্যজিতের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর তাঁকে সমবায়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। পাশাপাশি, অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

সেই দিনই হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের বলরামবাটি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে সত্যজিৎ রায়ের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৮ অক্টোবর তোসাদ্দেক-সহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে আগামী সোমবার সমবায়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল পুলিশের। তার আগেই শনিবার রাতে ব্যাঙ্কে গিয়ে ফুটেজ মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত করতেই তিনি রাতে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “রাতের দিকে কিছু ঘটলে বলবে, তোমাদের সিসি ক্যামেরা খারাপ ছিল। তাই ওটা সারাতে গিয়েছিলাম।”

এদিকে, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিঙ্গুর বিধানসভা বিজেপি যুব মোর্চার আহ্বায়ক পীযূষ চৌধুরী। রাতের বেলায় ব্যাঙ্কে গিয়ে কাজ করার কারণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “রাতের অন্ধকারেই কেন ওই কাজ করতে গেলেন? সারাদিন আর সময় পেলেন না?”

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে দেওয়ার চেষ্টা এবং অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজারের মৃত্যুর অভিযোগ—দুই বিষয়েই তদন্তের দিকে নজর রয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।


Share