Manipur Killing

মণিপুরে সেনাবাহিনীর জন‍্য খাবার নিয়ে যাওয়ার সময় হামলা, কুকি জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হুগলির পণ‍্যবাহী গাড়ির চালক

জানা গিয়েছে, ইম্ফল থেকে উখরুলগামী জাতীয় সড়ক, ২০২-এ লেইঙ্গাংচিং ও টিএম কাসোমের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত ট্রাক চালকের নাম নীতীশ দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ০১:০৩

মণিপুরে কুকি জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হলেন পণ‍্যবাহী গাড়ির চালক। তিনি হুগলির ত্রিবেণীর বাসুদেবপুর এলাকার বাসিন্দা। নিহতের নাম নীতিশ দাস। তাঁর দেহ হুগলিতে আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে মণিপুরের উফরুল জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, ইম্ফল থেকে উখরুলগামী জাতীয় সড়ক, ২০২-এ লেইঙ্গাংচিং ও টিএম কাসোমের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা ঘটার কিছু ক্ষণ আগে শাংখাই এলাকায় ট্রাক চলাচল রুখতে রাস্তা অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার পর ট্রাকগুলি আবার উখরুলের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এর পরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুগলির নীতিশ সেনাবাহিনীর জন‍্য এফসিআইয়ের চাল ইম্ফল থেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই গাড়িটির নিরাপত্তায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং মণিপুর পুলিশের এসকর্ট করে আনছিলেন। শাংখাই এলাকা থেকে ছ’কিলোমিটার ভিতরে যেতেই কনভয়ের ওপর কুকি জঙ্গিরা অতর্কিতে হামলা  চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

সেই সঙ্গে পুলিশের এক কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জখম পুলিশ কনস্টেবলের নাম ডিসিংগাম মারিংমেই (৩৪)। তিনি ইম্ফল পশ্চিম জেলার সাঙ্গাইপ্রো এলাকার বাসিন্দা। তাঁর হাঁটুতে গুলি লেগেছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মৃত্যুসংবাদ পৌঁছোনোর পরে পরিবারের লোকজনের ভেঙে পড়েছেন। তাঁর স্ত্রী গীতারানি দাস এক বছর আগে মারা গিয়েছেন। বাড়িতে তাঁর অসুস্থ ছেলে রয়েছে। জানা গিয়েছে, নীতিশের ছেলে নগেন দাস প্যানক্রিয়াটাইটিসের ভুগছেন। এক মেয়েও রয়েছেন। ট্রাকের গায়ে চালকের ভাই হংস দাসের ফোন নম্বর লেখা ছিল। অন্য ট্রাক চালকেরা সেই নম্বরে ফোন করে এই সংবাদ জানান।

পরিবার সূত্রের খবর, তিনি ছ’মাস আগে আবার বাড়িতে ফিরে আসবেন বলেছিলেন। অসমে গত ১০ বছর ধরে লরি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারে একমাত্র রোজগেরে নীতিশ ছিলেন। প্রতিদিন মেয়েকে ফোন করে কথা বলতেন। গতকাল সকালেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ট্রাক চালিয়ে যা আয় করতেন তা ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের খরচের জন‍্য পাঠিয়ে দিতেন। আর নীতিশের ঘরে ফেলা হল না। ছেলে এবং মেয়ের কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত পরিবার। ইতিমধ্যেই ভাই হংস এবং নীতিশের মেয়ে মণিপুরে পৌঁছে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা।


Share