TMC Leader Arrested

তোলাবাজি করতে পুলিশের গাড়ি ব‍্যবহার করার অভিযোগ, গ্রেফতার বরাহনগরের তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত-সহ চারজন

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বরানগরের এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনারকে মারধরের অভিযোগে জেল খেটেছিলেন তৃনমূল নেতা শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ অনুগামী অর্পণ দত্ত। আক্রান্তকে একটি ক্লাবে নিয়ে এসে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এই শঙ্করের বিরুদ্ধে।

বরাহনগরের তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বরাহনগর
  • শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০১:২৫

এলাকায় তোলাবাজি করতে ব‍্যবহার করা হয়েছিল পুলিশের গাড়ি। কীভাবে পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি করে তোলাবাজি করতে বেরোলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বরাহনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউতকে গ্রেফতার করেছে। সেই সঙ্গে আরও তাঁর তিন সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বরানগরের বনহুগলি এলাকার একটি যৌনপল্লীতে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে শঙ্কর রাউতের তিন-চারজন সাগরেদ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তোলাবাজি করছিল। সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। তোলার টাকা না দেওয়ায় মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে সেখানে বরাহনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সেখানে যান। সেখান থেকে বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ওই তিন-চারজনকে নিয়ে যান। জানা গিয়েছে, যে গাড়িতে করে ওই তিন-চার জনকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাতে পুলিশের স্টিকার লাগানো ছিল। 

পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি দেখতেই তাঁকে আটকানো হয়। তা দেখেই এলাকাবাসীরা তুমুল বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার ভোরে তোলাবাজি, মারধর এবং অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ছাড়াও অর্পণ দত্ত এবং বনি নামে দুই ব‍্যক্তি রয়েছে। শনিবার ধৃতদের ব‍্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে। 

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, বরানগরের এক ইন্টিরিয়র ডিজাইনারকে মারধরের অভিযোগে জেল খেটেছিলেন তৃনমূল নেতা শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ অনুগামী অর্পণ দত্ত। আক্রান্তকে একটি ক্লাবে নিয়ে এসে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এই শঙ্করের বিরুদ্ধে। 

এলাকায় তোলাবাজি, প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা তোলা, জমি দখল-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই শঙ্করের বিরুদ্ধে। শঙ্কর বনহুলির বিলাসবহুল ক্লাবে বসেই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন বলে দাবি। তাঁকে তৎকালীন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করা হয়। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় শঙ্করের নাম উঠে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, শঙ্কররের অনুমতি ছাড়া কোনও নির্মাণকাজ করা যায় না। শুধু শঙ্কর ঘোষ একা নন, তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনও ধরনের বেআইনি কাজ, দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ-সহ অন্যান্য যাবতীয় অনৈতিক কাজে যে বা যারা যুক্ত থাকবে, সে যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরেই ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। এ বার সেই তালিকায় নাম জুড়ল বরানগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত এবং তাঁর তিন সঙ্গীর।


Share