TMC Leader Shot

বিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান-সহ দু’জন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতালে

বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকার সিসি ক‍্যমেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তৃণমূল নেতাকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বলে মনে করেছে তদন্তকারীরা।

তৃণমূল নেতার নাম দেবব্রত মন্ডল ওরফে বাবু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২৫ ০১:১৭

মধ্যরাতে হাওড়ায় চলল গুলি। গুলিবিদ্ধ তৃনমূলের পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মন্ডল ওরফে বাবু। সেই সঙ্গে তাঁর সহযোগীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। পরে তৃণমূল নেতাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

জখম তৃণমূল নেতার নাম দেবব্রত মন্ডল ওরফে বাবু। বাবুর মোটরবাইক চালক অনুপম রানাও গুরুতর জখম হয়েছেন। দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু সাঁপুইপাড়া-বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান। স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিট নাগাদ বড় শিবতলা একটি ওষুধের দোকানের সামনে একটি বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ সেরে মোটরবাইকের পিছনে চেপে বাড়ির দিকে রওনা দেন। সেই সময় একটু দুরে যেতেই কয়েক জন দুস্কৃতী সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। আচমকা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাবু মন্ডলের একটি কোমোরে এবং একটি গুলি এসে লাগে সোজা পিঠের দিক থেকে পাঁজরে। তৃতীয় গুলিটি এসে লেগেছে অনুপম রানার হাতে। ঘটনার পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তৃণমূল নেতা ও তাঁর সঙ্গী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে গোলাবাড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, অনুপমের হাত থেকে গুলিটি বের করা গিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল নেতারদেবব্রত মন্ডল ওরফে বাবুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ঘটনার পরে একটি সামনের দোকানের সিসি  ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে এসেছে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের অনুমান, দুষ্কৃতীরা বেনারস রোডের দিকে পালিয়ে যেতে পারে। সম্ভাব্য সমস্ত ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পরে হাসপাতালে যান হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত প্রধান ও আরও এক জনের গুলি লেগেছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

ঘটনাস্থলে যান হাওড়া জেলার তৃণমূলের সভাপতি গৌতম চৌধুরীও। তিনি গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, “পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ডিসি (উত্তর) ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। স্থানীয় বিধায়ক নিজে এসেছেন। এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

হাওড়া জেলার প্রাক্তন তৃণমূলের সভাপতি তথা ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলেন, “কেন এই ঘটনা, বোঝা যাচ্ছে না। দুস্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশকে বলেছি।”


Share