Arms Seized

মুর্শিদাবাদে জোড়া অভিযানে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার, গ্রেফতার আরও তিন দুষ্কৃতী, বাংলাদেশে পাচারের ছক ছিল বলে দাবি পুলিশের

মুর্শিদাবাদে পরপর দু’টি অভিযানে ১০টি পিস্তল ও ২১০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করল পুলিশ। বিহার থেকে অস্ত্র এনে মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনায় আগে এক জনের গ্রেফতারের পর এ বার আরও তিন জনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২১

আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কিনে পাচারের পরিকল্পনা চলছিল। বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কিনে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে পাচারের পাচারের ছক কষা হয়েছিল। এই সন্দেহে পুলিশ মুর্শিদাবাদে পরপর দু’টি অভিযান করে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় আগে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বার আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে পুলিশ অস্ত্র পাচারের বিষয়ে খবর পায়। এর পর শুক্রবার রাতে বহরমপুর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাপাই ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে পুলিশ পাঁচটি পিস্তল, ১৭০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং বেশ কয়েকটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে।

এর পাশাপাশি শক্তিপুর থানা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জলঙ্গি থানা এলাকার তিন ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে আরও পাঁচটি পিস্তল এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় ওই তিন জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ধৃতেরা বিহার থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল। এরপর মুর্শিদাবাদ হয়ে সীমান্ত পার করে সেগুলি বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ। শনিবার ধৃতদের বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নিতে আবেদন জানানো হয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কর জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই পাপাই ঘোষ গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরেছেন বলে পুলিশ খবর পায়। এরপরই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অস্ত্র পাচার সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

এই অস্ত্র পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এর মূল নেটওয়ার্ক কোথায়, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।


Share