Accident

আবাস যোজনার নতুন বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, হলদিয়ার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

ঘটনার সময় তাঁদের পরিবারের ১৪ বছরের বড় মেয়ে টিউশনে গিয়েছিল। তাই সে প্রাণে বেঁচে যায়। বাড়ি ফিরে সে দেখে বাবা, মা এবং ভাই ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫২

নতুন বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে বিপত্তি। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় আবাস যোজনার নতুন বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য। মৃতরা হলেন সিরাজ মল্লিক (৪২), তাঁর স্ত্রী আলিয়া বিবি এবং তাঁদের আনাস মল্লিক (১২)। ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিরাজ মল্লিক পুলকার চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজের জন্য পাওয়ার টিলার ভাড়ার ব্যবসাও করতেন। সম্প্রতি আবাস যোজনার আওতায় তাঁদের পরিবার নতুন বাড়ি পেয়েছিল। বাড়ির নির্মাণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ ও তারের কিছু কাজ বাকি ছিল। সেই কাজ সিরাজ নিজেই করছিলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় বাইরের কাজ সেরে বাড়ি ফিরে তিনি বিদ্যুতের কাজ শুরু করেন। সেই সময় আচমকাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। স্বামীকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী এগিয়ে আসে। তখনই স্ত্রী আলিয়া বিবিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে পড়েন। পরে বাবা-মাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদের ছেলে আনাসও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার সময় পরিবারের ১৪ বছরের বড় মেয়ে টিউশনে গিয়েছিল। বাড়ি ফিরে সে দেখে বাবা, মা এবং ভাই ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের খবর দেয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রথমে বিদ্যুতের মূল সংযোগ বন্ধ করেন। এরপর তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ভবানীপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, টানা বর্ষণের কারণে বাড়ির দেওয়াল ভিজে ছিল। তাই কোনওভাবে বিদ্যুতের তারে জল লেগে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

এই দুর্ঘটনায় পরিবারে একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে রয়ে গিয়েছে ১৪ বছরের কিশোরী। বাবা, মা এবং ভাইকে একসঙ্গে হারিয়ে সে ভেঙে পড়েছে। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।


Share