Ghatal Master Plan

জুনের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ এগোনোর বার্তা, ১২০০ কোটি মঞ্জুরের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বুধবার বীরসিংহে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, পুজোর পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। রাজ্যের তরফে প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুরের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি গঙ্গাপাড়ের কাঁচা বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল
  • শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৪

বর্ষা এলেই ঘাটালের সেই জলমগ্ন চিত্র। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জলবন্দি হওয়ার ছবি যেন অতি পরিচিত। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অধিকাংশ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে রাজ্যের।

বীরসিংহে সভায় যোগ দেওয়ার আগে কপ্টার থেকে প্লাবিত ঘাটাল পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এবারের বর্ষাতেও ঘাটালের মানুষকে বানভাসি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান মূলত ভাষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ করে অর্থ দেবে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফেও কিছু অর্থ দেওয়া হবে।

রাজ্যের তরফে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য মোট ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। দাসপুর ও ঘাটালের বিধায়কদেরও প্রকল্পের কাজের উপর তিনি নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুজোর পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ পুরোদমে শুরু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে টি জানান। তাঁর কথায়, ফি বছর যাতে ঘাটালের মানুষকে জলযন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়, সেদিকেই নজর দিতে হবে।

এদিন গঙ্গাপাড়ের কাছে থাকা কাঁচা বাড়িগুলির তালিকা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিটি কাঁচা বাড়ির মালিককে রাজ্য সরকারের তরফে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। দ্রুত সেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।

ঘাটালের বন্যার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যা। শীলাবতী, কংসাবতী এবং দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির জলপ্রবাহ ঘিরে এই এলাকা বরাবরই বন্যাপ্রবণ। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় স্থানীয় ভূস্বামীরা নিজেদের জমিদারি এলাকার নিচু জমিগুলিকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে নদীর চারপাশে সার্কিট বাঁধ তৈরি করেছিলেন। সেই জমিদারি ব্যবস্থা এখন আর নেই। কিন্তু বহু পুরনো সেই বাঁধগুলি এখনও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধগুলির একাংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় সেই বাঁধ ভেঙেই ঘাটালের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে, জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদীর বাইরে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে নদীর বুকেই জমতে থাকে। এর ফলে ধীরে ধীরে নদীগুলির জলধারণ ক্ষমতাও কমছে। বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা।

এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা। তবে আগের তৃণমূল সরকারের আমলে প্রকল্পের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবারের বর্ষাতেও জলমগ্ন হতে হয়েছে ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকাকে। এখন ক্ষমতার পালাবদলের পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ নিয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর ঘাটালবাসীর।


Share