Baruipur Incident

পুকুরের সামনেই একটি ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয়! বস্তাবন্দি করা হয় সেখানেই, বারুইপুর কান্ডের তদন্তে কী উঠে এল

মঙ্গলবার রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত বলেন, “তদন্ত চলছে। তা নিয়ে বেশি কিছু বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। পুলিশ যা যা পদক্ষেপ করার করবে।” পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও পরিবার করেছিল। তা নিয়ে ডিজি বলেন, “কার কী গাফিলতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪০

সূর্যপুরের যে পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হয়, সামনেই রয়েছে একটি ঝুপড়ি। সেই ঝুপড়িতেই কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই নির্যাতন করা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছে। নমুনা সংগ্রহ তদন্তকারীরা করছেন। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ওই ঝুপড়িতে মদ-গাঁজার আসর বসত।

বারুইপুর কান্ডে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হলেন— প্রভাস মন্ডল, দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার। তিন জনই এলাকায় মাদকাসক্ত বলে পরিচিত। এদের মধ্যে দিবাকর এবং প্রভাসকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। তাঁদের আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁকেও হেফাজতে নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রভাস মন্ডল কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল দিবাকর এবং আনন্দ। অভিযোগ, সেখানে তিনজনে বসে মাদক সেবন করে। তার পরে নাবালিকা সেখানে গেলে নির্যাতন শুরু করে। তবে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ তাঁতি সেখানে ছিল কি না তা নিয়ে পুলিশের সূত্রটি স্পষ্ট করে করেনি।

রবিবার রাতে কলকাতা পুলিশের কাঁটাপুর মর্গে কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তা দেখে তদন্তকারীরা মনে করছেন করছেন, কিশোরীর মৃত্যু জলে ডুবে যাওয়ার কারণে হয়েছে। জলে ফেলার আগেও ওই কিশোরী বেঁচে ছিল। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের সময় কিশোরীর গলায় পা দিয়ে চাপ দেওয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় জ্ঞান হারায়। সেখানেই ফেলে রাখা হয়। 

এর পরেই বেশি রাতের দিকে কিশোরীর দেহ লোপাট করার পরিকল্পনা করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথমে একটি প্লাস্টিকের করে দেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্লাস্টিক ছিঁড়ে যায়। তা বেশি দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে ওই পুকুরের ধারেই ফেলে দেওয়া হয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তার পরে অভিযুক্তেরা আলাদা আলাদা দিকে পালিয়ে যায়। 

মঙ্গলবার সকালে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত ঘটনাস্থলে যান। যে যে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল, সবকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। যে পুকুরের ধার থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল সেই জায়গায় সশরীরে গিয়ে খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, তদন্ত কতদূর, অভিযুক্তেরা জিজ্ঞাসাবাদে কী কী জানিয়েছে বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কাছে থেকে তা জানতে চান।

এ দিন রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত বলেন, “তদন্ত চলছে। তা নিয়ে বেশি কিছু বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। পুলিশ যা যা পদক্ষেপ করার করবে।” পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও পরিবার করেছিল। তা নিয়ে ডিজি বলেন, “কার কী গাফিলতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।” 


Share