Sugar Price Hike

চিনির দামে ‘আগুন’! লাগামছাড়া বৃদ্ধি জেরে দোটানায় শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা, সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি

চিনির দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৭২ টাকা হওয়ায় বাড়ছে শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা তৈরির খরচ। মিষ্টির দাম বাড়ানো হবে, নাকি আকার ছোট করা হবে—তা নিয়ে দোটানায় ব্যবসায়ীরা।

চিনির দাম বৃদ্ধিতে সমস্যায় ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৩

উর্ধ্বমূখী চিনির দামের সূচক। ফলত বড়সড় চাপের মুখে পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চিনির দামে উৎপাদন খরচও আগের চেয়ে বাড়ছে। এখন ভাবনা একটাই— মিষ্টির দাম বাড়ানো হবে নাকি আকার কিছুটা ছোট করা হবে। এই নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে— সেই দিকটাও ভাবাচ্ছে তাঁদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সপ্তাহখানেক আগেও খোলা বাজারে চিনি কেজি প্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় ৭২ টাকা হয়ে গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার হয়। আবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। রাজ্যে চিনির উৎপাদন তুলনামূলক কম হওয়ায় বাইরের রাজ্য থেকে চিনি আনতে হয়। সব মিলিয়েই জোগানে টান পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরি দাবি করছেন।

শক্তিগড়ে সাত টাকা থেকে শুরু করে ১০, ১৫ এবং ২০ টাকা দামের ল্যাংচাও বিক্রি হয়। ল্যাংচা তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণই চিনি। তাই চিনির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় উৎপাদন খরচে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বিশ্বজিৎ দাস নামে এক ব্যবসায়ী জানান, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ল্যাংচার দাম বাড়ানো হবে, নাকি মিষ্টির আকার ছোট করা হবে, তা নিয়ে তাঁরা চিন্তায় রয়েছেন।

অন্য দিকে, ক্রেতাদের আশঙ্কা, ল্যাংচার দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন। তবে দাম বাড়লেও শক্তিগড়ের ঐতিহ্যবাহী ল্যাংচার স্বাদ ও মান যেন কোনও ভাবেই নষ্ট না হয়, সেই দাবিও রয়েছে তাঁদের।

চিনির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রাস্তার পরিস্থিতিও ব্যবসায়ীদের চিন্তা বাড়িয়েছে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ এবং ল্যাংচা হাবের সামনে উড়ালপুল তৈরির কারণে দোকানের সামনে আগের মতো গাড়ি দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাঁদের অভিযোগ, এর ফলে ক্রেতার আনাগোনাও কমেছে। গ্যাস, চিনি-সহ একাধিক কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং কমে যাওয়া ক্রেতার সংখ্যা— দুইয়ের চাপে শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসা এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।


Share