Food Safety

বাদুড়িয়ায় রেস্তরাঁয় পচা মাংস, মধ্যমগ্রামের মলে কেজি কেজি ছত্রাক ধরা খাবার! অভিযানে লাইসেন্স বাতিল

খাদ্য দফতর, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঘটনায় ফের উস্কে উঠেছে আট বছর আগের ভাগাড়কাণ্ডের স্মৃতি।

মধ্যমগ্রামের মলের ফুড কোর্টে অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাদুড়িয়া
  • শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪২

আবারও সেই বাদুড়িয়া। রেস্তরাঁর রান্নাঘরে মিলল পচা মাংস। শুধু বাদুড়িয়াতেই নয়, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের একটি মলের একাধিক ফুড কোর্টেও উদ্ধার হল কেজি কেজি পচা ও ছত্রাক ধরা মাংস। পাশাপাশি, মিলেছে একাধিক অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রীও। খাদ্য দফতর, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঘটনায় ফের উস্কে উঠেছে আট বছর আগের ভাগাড়কাণ্ডের স্মৃতি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে খাদ্যসুরক্ষা দফতরের অভিযান জোরকদমে চলছে। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ শুরু হয়েছে। হগ মার্কেট (নিউ মার্কেট) চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে শুরু করে সব্জি-মাছে ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার কিংবা মাপে কারচুপি যে কোনও ধরনের অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই চলবে। এর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অভিযানে সামনে আসছে অনিয়মের ছবি। কোথাও মিলছে পচা মাংস, কোথাও আবার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী। বাদুড়িয়া ও মধ্যমগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই উদ্বেগই আরও বাড়ল।

মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার দিদিমণি রোডের একটি নামী রেস্তরাঁয় প্রশাসন অভিযান চালায়। রেস্তরাঁর রান্নাঘর থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাংসের মধ্যে মুরগি ও খাসির মাংস ছিল বলে জানা গিয়েছে। রেস্তরাঁর কর্মচারীদের দাবি, ফেলে দেওয়ার জন্যই ওই মাংস আলাদা করে রাখা হয়েছিল। তবে তাঁদের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি খাদ্য দফতর। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পচা মাংস রাখার বিষয়ে সন্তোষজনক কারণ জানাতে না পারলে রেস্তরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় ঘোষের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের আমল থেকে বেশ কয়েকটি হোটেল এবং রেস্তরাঁ এ ভাবে বেআইনি ব্যবসা করছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ওদের অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, সব জায়গায় খাদ্যের গুণাগুণ এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তার পরেও এরা এই বেআইনি কাজ করছে। এদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’’

২০১৮ সালের এপ্রিলে ভাগাড়ের মাংস ঘিরে পুরো রাজ্য তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, মৃত পশুর মাংস কেটে তা কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন হিমঘরে সংরক্ষণ করা হত। মাংস দীর্ঘদিন ভাল রাখার জন্য অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, লেড সালফেট এবং ফরম্যালিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হত। এর পর সেই মাংস বাক্সবন্দি করে তার উপরে ইলিশ বা চিংড়ি মাছ রেখে একাধিক প্রতিবেশী রাজ্যে পাচার করা হত। কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁর পাশাপাশি শপিং মলগুলিতেও সেই মাংস ‘ফ্রোজ়েন’ মাংসের নামে সরবরাহ করা হত বলে তদন্তে জানা যায়। অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর ধরে এই কারবার চলছিল। ভাগাড়ের মাংস উদ্ধারের ঘটনায় প্রথমেই উঠে এসেছিল বাদুড়িয়ার নাম। সেখানকার একটি এলাকা থেকে পুলিশ টন টন পচা মাংস উদ্ধার করেছিল। পরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ভাগাড়ের মাংস উদ্ধার হয়। ঘটনায় অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি, একাধিক রেস্তরাঁ ও হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

একই ছবি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন স্টার মলের একাধিক ফুড কোর্টেও। সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট এবং পানীয়ের বোতল দেখে রাজ্য সরকারের খাদ্যমান পরীক্ষকেরা (ফুড সেফটি অফিসার) রীতিমতো চমকে যান। অভিযোগ, সরকারি আধিকারিকদের দেখামাত্রই রেস্তরাঁর কর্মীরা ওই খাদ্যসামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলে দেন। মলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলের একের পর এক ফুড কোর্টে গিয়ে সরকারি আধিকারিকেরা অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে খাদ্যমান পরীক্ষকেরা কয়েকটি ফুড কোর্টের মালিকের ব্যবসা সংক্রান্ত লাইসেন্স ঘটনাস্থলেই বাতিল করে দেন।


Share