Accident

কাজে যাওয়ার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে রেলকর্মীর মৃত্যু, কাজের চাপে আত্মঘাতী নাকি দুর্ঘটনা উঠছে প্রশ্ন

শুক্রবার সকালে হুগলি স্টেশনের আপ লাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু রেলকর্মী কমল সেনাপতির। তিনি রেলের পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের ইনস্পেক্টর ছিলেন। সহকর্মীদের একাংশের দাবি, কাজের চাপ ও মানসিক চাপের মধ্যে তিনি ছিলেন।

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু এক রেলকর্মীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৫

কাজে যাওয়ার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল এক রেলকর্মীর। শুক্রবার সকালে হুগলি স্টেশনের আপ লাইনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত রেলকর্মীর নাম কমল সেনাপতি। বয়স ৫৩ বছর। জানা গিয়েছে, তিনি রেলের পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের ইনস্পেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ চন্দননগরে যাওয়ার জন্য কমল বেরিয়েছিলেন। তিনি হুগলি স্টেশনেও পৌঁছেছিলেন। কিন্তু চন্দননগরের দিকে না গিয়ে তিনি উল্টো দিকের লাইনের দিকে যান বলে জানা গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ব্যান্ডেলের দিকে যাওয়া আপ লাইনে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ব্যান্ডেল জিআরপি ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কমলের সহকর্মীদের একাংশ ব্যান্ডেল জিআরপি থানায় পৌঁছোন । তাঁদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে কাজের চাপ নিয়ে কমল মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। তাঁর ডাউন ট্রাই ধরার কথা ছিল কিন্তু তিনি আপের দিকের লাইনে কাটা পড়েন। সেই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন বলে কয়েকজন সহকর্মী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও এটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত করছে জিআরপি।

রেলকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, কর্মীসংখ্যা কম থাকায় তাঁদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ছুটিও মিলছে না বলে অভিযোগও উঠে আসে। এমনকি কোনও কোনও দিন দীর্ঘ সময় ধরে ডিউটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

সহকর্মীদের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে কমলের উপরও কাজের বিষয়ে মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। এমনকি তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তাঁদের কথায়, কয়েক দিন ধরেই কমলকে অস্থির দেখাচ্ছিল।

কর্মীদের উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরির বিষয়টি ডিআরএমকে জানানো হয়েছে বলেও জানান সহকর্মীরা। সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রেলের মেনস ইউনিয়ন।

কমলের বাড়ি বলাগড়ে। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে ব্যান্ডেল জিআরপি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিকে, ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। তিনি বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তবে সহকর্মীরা কী বললেন, তার চেয়ে বেশি জরুরি বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলা। আমরা ওই কর্মীর বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’’


Share