Political Chaos

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলে বড় ধাক্কা! জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

বুধবার তিনি দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে ই-মেল মারফত নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর ইস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দলীয় সূত্রে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।

পূর্ব বর্ধমানে জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৮:৪১

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় রাজনৈতিক জল্পনার সৃষ্টি করে জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার তিনি দলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে ইমেল মারফত নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর ইস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দলীয় সূত্রে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।

জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব এই প্রবীণ নেতা। ২০২১ সাল থেকে টানা তিনবার পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি আর এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না। তাই তাঁর আবেদনকে পদত্যাগপত্র হিসেবে বিবেচনা করে দায়িত্বমুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ছ’বারের বিধায়ক এবং এলাকার অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলের টিকিটে একাধিকবার জয়ী হলেও, এবারের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষের কাছে ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন। নির্বাচনী পরাজয়ের পর এবার দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের পদত্যাগ পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে একাধিক সাংগঠনিক টানাপোড়েন, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই আবহে রবীন্দ্রনাথের ইস্তফার নেপথ্যে শুধুই শারীরিক অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক কারণও রয়েছে, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


Share