Railway Disruption

ষষ্ঠীর সকালেই রেল বিভ্রাট! কামারকুণ্ডুতে যাত্রী বিক্ষোভ, প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বন্দে ভারত

রেললাইনে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এর জেরে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে আপ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। পুজোর সকালে এই ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েন বহু রেলযাত্রী।

কামারকুণ্ডু স্টেশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কামারকুণ্ডু
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৫

ষষ্ঠীর সকালেই হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে চরম রেল বিভ্রাট। কামারকুণ্ডু স্টেশনে কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেসের দীর্ঘক্ষণ দেরি এবং পরিষেবা নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রেললাইনে নেমে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর জেরে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে আপ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। পুজোর সকালে এই ঘটনায় বহু যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আপ ২২৫০৩ কন্যাকুমারী-ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে চলছিল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে কামারকুণ্ডু স্টেশনে পৌঁছোনোর কথা থাকলেও ট্রেনটি সেখানে পৌঁছোয় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ। তার পরেও দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ট্রেনটিকে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। ট্রেন থেকে নেমে রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভের জেরে আটকে পড়ে আপ ২২৩০৩ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও।

খবর পেয়ে রেল পুলিশ এবং রেলের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। পরে যাত্রীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সকাল ৮টা নাগাদ কামারকুণ্ডু থেকে রওনা দেয় বিবেক এক্সপ্রেস। এর ঠিক চার মিনিট পরে, সকাল ৮টা ৪ মিনিটে যাত্রা শুরু করে হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।

এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানান, বিবেক এক্সপ্রেস দেরিতে চলছিল। পূর্ব রেলের এলাকায় ঢোকার সময়েও ট্রেনটি দেরিতে চলছিল। কামারকুণ্ডু স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানোর পর যাত্রীরা কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ দিকে, বিবেক এক্সপ্রেসের পরিষেবা নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে একটি পরিবার। তাঁদের দাবি, ডানকুনি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) যাওয়ার জন্য এস-৪ কোচে সংরক্ষিত টিকিট কেটেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ট্রেনের ভিতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে কামারকুণ্ডু স্টেশনে নেমে যেতে বাধ্য হন। বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। ওই পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক।

পুজোর মরশুমে বাড়তি যাত্রীচাপের মধ্যে ট্রেনের দেরি এবং পরিষেবা নিয়ে এই অভিযোগ রেলের যাত্রী পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।


Share