TMC Political Crisis

মিলন গ্রেফতারের পর নন্দীগ্রামে ফের পুলিশি তৎপরতা, ২০০৭-এর মামলায় সুফিয়ান-সাহাউদ্দিনের বাড়িতে অভিযান

একই মামলার সূত্রে মমতা তৃণমূলের আরও এক নেতা সাহাউদ্দিন হোসেনের বাড়িতেও যায় পুলিশ। দু’জনের বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে রবিবার তাঁদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

মমতাপন্থী তৃণমূলের দুই নেতার বাড়িতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৯

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আবহে ফের সক্রিয় পুলিশ। ১৭ বছর পুরনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেফতার হওয়ার পর এ বার ২০০৭ সালের অন্য মামলায় মমতা তৃণমূলের নেতা শেখ সুফিয়ানের বাড়িতে অভিযান চালাল পুলিশ। একই মামলার সূত্রে মমতা তৃণমূলের আরও এক নেতা সাহাউদ্দিন হোসেনের বাড়িতেও যায় পুলিশ। দু’জনের বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে রবিবার তাঁদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি মমতা তৃণমূল। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে তারা। কিন্তু ১৭ বছর পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলবন্দি রয়েছেন মিলন। এর মধ্যেই রবিবার নন্দীগ্রামের দুই পরিচিত নেতাকে গ্রেফতারের জন্য তৎপর হয় পুলিশ।

সকালে নন্দীগ্রাম বাইপাসে শেখ সুফিয়ানের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল। অন্য একটি দল যায় নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য সাহাউদ্দিন হোসেনের হোসেনপুরের বাড়িতে। তল্লাশি ও খোঁজখবরের পর দু’টি দলই ফিরে যায়।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন সুফিয়ান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সুফিয়ানের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। নন্দীগ্রামের ভূমি আন্দোলনের সময়, বাম আমলে ওই মামলাগুলি দায়ের হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, সাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে রবিবারের অভিযানে দুই নেতার কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। সুফিয়ানের পরিবারের দাবি, চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে বাইরে রয়েছেন। সাহাউদ্দিনের পরিবারের তরফে পুলিশি অভিযান নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

দুই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং ভোটের আগে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভোটের মুখে নাকি ২০০৭ সালের কেস রিওপেন করে গ্রেফতার করা হচ্ছে! অথচ সারদা-নারদার মতো বড়ো মামলা চাপা রাখা হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এগুলো সব নাটক। নন্দীগ্রামের মানুষ সব বুঝতে পারছেন। আশা রাখি, ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবেন তাঁরা।’’


Share