Drug Smuggling

মুর্শিদাবাদে পুলিশের গাড়ি থেকে পালাল ফেনসিডিল পাচারকারী! হাতকড়ার চাবি খুলে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ

ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা। জানা গিয়েছে, ওই সময় গাড়িতে মোট ছয়জন বন্দি ছিল। তাদের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন একজন কনস্টেবল ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১১:২৮

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশ হেফাজত থেকে পালাল ফেনসিডিল পাচারকারী। মঙ্গলবার সকালে মুর্শিদাবাদের রানিনগর থানার গোধনপাড়া ব্লক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পলাতক যুবকের নাম জাকির শেখ (৩০)। তার বাড়ি রানিনগরের কাহারপাড়া এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল পাচারের অভিযোগে বিএসএফ জাকিরকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তাকে রানিনগর থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সোমবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার সকালে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও কয়েক জন বন্দির সঙ্গে জাকিরকে গোধনপাড়া ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পুলিশ ভ্যানে করে থানায় ফেরার সময়ই ঘটে এই ঘটনা। অভিযোগ, চলন্ত গাড়ির মধ্যেই পুলিশের চোখ এড়িয়ে হাতকড়ার চাবি ব্যবহার করে নিজেকে মুক্ত করে ফেলে জাকির। এরপর গাড়ির পিছনের দরজা খুলে আচমকাই ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় সে।

ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন গাড়িতে থাকা পুলিশকর্মীরা। জানা গিয়েছে, ওই সময় গাড়িতে মোট ছয়জন বন্দি ছিল। তাদের পাহারার দায়িত্বে ছিলেন একজন কনস্টেবল ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। জাকিরের হাতকড়া আর এক বন্দির সঙ্গে লাগানো ছিল। অভিযোগ, হাতকড়ার চাবিটি ওই বন্দির হাতকড়ার সঙ্গেই লাগানো ছিল, যার সুযোগ নিয়েই পালাতে সক্ষম হয় জাকির।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। রানিনগর থানা এবং এসডিপিও শুভম বাজারের নেতৃত্বে আশপাশের মাঠ, বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। তবে জাকিরের কোনও খোঁজ মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে দাবি, জাকির দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত জাকির। বিএসএফের হাতে ধরা পড়ার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই পুলিশ হেফাজত থেকে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাতকড়ার চাবি কীভাবে আসামির নাগালে এল এবং নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


Share