Demolition

‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ থেকে বুলডোজারের গর্জন! আদালতের নির্দেশে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল পাপাই ঘোষের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি

স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের নামে নিয়মিত সেখানেই বৈঠক করতেন তিনি। পাশাপাশি, কাউকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁকে ওই বাগানবাড়িতেই ডেকে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৩:২১

ব্যারিকেডে ঘেরা এলাকা, বাইরের গেটে স্পষ্ট লেখা, ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’। গেট পেরিয়ে কিছুটা ফাঁকা জায়গা, তারপরই সুসজ্জিত বাগানবাড়ি। কোনও শিল্পপতি বা তারকার নয়, এই বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরি করেছিলেন তৃণমূলের যুব সভাপতি পাপাই ঘোষ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলত নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বেপাত্তা পাপাই। এদিকে, বাগানবাড়ি জবরদখলের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশ মেনে শনিবার সকালে সেই বাগানবাড়িতে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়।

বহরমপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দাবাদের সুড়সুড়ি মাঠ সংলগ্ন ওই বাগানবাড়িকে ঘিরেই চলত অভিযুক্ত পাপাই ঘোষের কর্মকাণ্ড বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের নামে নিয়মিত সেখানেই বৈঠক করতেন তিনি। পাশাপাশি, কাউকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন হলে তাঁকে ওই বাগানবাড়িতেই ডেকে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাগানবাড়িতে পাপাই ঘোষের অনুগামীদের নিয়মিত আনাগোনা চলত। প্রায় প্রতিদিনই সেখানে পিকনিকের আসর বসত এবং গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপান ও ভোজ চলত। তাঁদের দাবি, ওই পরিবেশের কারণে রাতের বেলায় বাগানবাড়ি সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে এলাকার বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলারা, আতঙ্ক বোধ করতেন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমিটির প্রকৃত মালিক বর্তমানে হাওড়া এলাকায় বসবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেই সময় কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরবোর্ড স্থানীয় শিশুদের জন্য জমির একাংশে একটি শিশু উদ্যান নির্মাণ করে। বাকি অংশটি ফাঁকাই ছিল। অভিযোগ, পরবর্তীতে বহরমপুর পুরসভার ক্ষমতা তৃণমূলের হাতে আসার পর ওই ফাঁকা জমির জাল দলিল তৈরি করে সেটি দখল করেন পাপাই ঘোষ এবং সেখানে একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদালতের রায় এলাকাবাসীর পক্ষে যাওয়ার পর প্রশাসন বুলডোজার নিয়ে গিয়ে ওই বাগানবাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, 'অবৈধ দখলদারি আমরা রুখব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছেন। ফলে প্রশাসন তাঁর কাজ শুরু করেছেন। এ দিন পাপাই ঘোষের বাগান বাড়ি ভাঙা হয়েছে। আগামী দিন যাঁরা এমন অবৈধ দখল করে রেখেছেন, তাঁরাও পার পাবেন না।'

অন্য দিকে, ওই ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিরু হালদার বলেন, ‘এটা তো ছোট একটা ব্যাপার। এই তৃণমূল যুব সভাপতির নেতৃত্বে একাধিক সরকারি জায়গা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পার্ক ও সুইমিং পুল, সেটাকে অন্য লোকের হাতে তুলে দিয়ে, এখন সেখানে গোডাউন হয়েছে। আমি চাই সেই পার্ক পুনরুদ্ধার করা হোক।’


Share