Bhangar Bomb Tension

পুলিশ অবজার্ভারের সফরের মধ্যেই ভাঙড়ে উদ্ধার ৮০-র বেশি বোমা, মিলল বন্দুকও

সকালে চণ্ডীহাট গ্রামে নুরুল মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে পুলিশ তিনটি বোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইএসএফ অভিযোগ তোলে, বিরোধীদের ভয় দেখাতেই সেখানে বোমা মজুত রাখা হয়েছিল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভাঙড়
  • শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০২:৩৫

বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভাঙড়। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের অবজার্ভার পরিদর্শনে আসার মধ্যেই পরপর বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

সকালে চণ্ডীহাট গ্রামে নুরুল মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে পুলিশ তিনটি বোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইএসএফ অভিযোগ তোলে, বিরোধীদের ভয় দেখাতেই সেখানে বোমা মজুত রাখা হয়েছিল। যদিও তৃণমূল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পরে বিকেলে দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামের একটি ডোবা থেকে ৮০টিরও বেশি বোমা উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাগুলি জলে ভিজে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল।

একই দিনে দক্ষিণ বামুনিয়া থেকেই একটি একনলা বন্দুক এবং কয়েক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই ওই পুকুরের কাছের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং হাড়োয়া-র বাসিন্দা মশিউর কাজির মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণে তাঁর দু’টি হাত উড়ে গিয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, আহত সুজয় মণ্ডল বোমা বাঁধার উদ্দেশ্যেই বামুনিয়ায় এসেছিলেন বলে পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছেন। বসিরহাটের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি ঘটনার রাতে আহতদের সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত অ্যাম্বুল্যান্সের চালক সুরাজ মোল্লাকেও বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এনআইএ-র তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই দু’বার বামুনিয়ায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের অবজার্ভার মনোজ কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স-সহ মাধবপুর ও উত্তর কাশীপুর থানাও ঘুরে দেখেন এবং ভোটের আগে কত ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা বলেন, ‘বোমা, বন্দুকের রাজনীতি আমরা করি না। আইএসএফ এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির জন্য এ সব করছে।’ পাল্টা ভাঙড়ের আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম বলেন, ‘বামুনিয়াতে শওকত মোল্লা লোক পাঠিয়েছিল বোমা তৈরির জন্য। জন সমর্থন নেই তৃণমূলের। তাই এখন বোমা, বন্দুকের রাজনীতি করছে ওরা।’


Share