TMC

চন্দননগরের পুরসভার ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা চিঠি, বিক্ষুব্ধ দলেরই ২১ জন কাউন্সিলর

মুন্না আগরওয়াল চন্দননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র ছিলেন। কান পাতলেই শোনা যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই মুন্না। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃনমূলেরই কাউন্সিরেরা।

ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়ালের পদত্যাগ পত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দননগর
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০৯:৪৯

পালাবদল হতেই চন্দননগরের ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা চিঠি দেওয়া হয়েছে। হুগলির চন্দননগর পুরসভার ২১জন তৃণমূল কাউন্সিলর এই অনাস্থা চিঠি দেন। তার পরেই পদত্যাগ করেন ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মেয়র রাম চক্রবর্তীর কাছে এই অনাস্থা দেওয়া হয়েছে।

মুন্না আগরওয়াল চন্দননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র ছিলেন। কান পাতলেই শোনা যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই মুন্না। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃনমূলেরই কাউন্সিররা।

কাউন্সিলর মেয়র পারিষদ পীযূষ বিশ্বাসের অভিযোগ, চন্দননগরে সিঙ্গল উইডো ব্যবস্থা চালু ছিল। যেটা তৃনমূল দল ঠিক করেনি। বিধায়ক ও ডেপুটি মেয়র ঠিক করেছিলেন। যার মাধ্যমে সব কাজে প্রভাব খাটানো হতো। কোনও কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদের কাজ করতে পারেননি। দু'জনের দাপুটে চন্দননগরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। 

মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, “মন্ত্রীমশাইয়ে ওপর কোনও কথা বলার সাহস আমাদের ছিল না। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে যা খুশি তাই করেছেন। তিনি উপলব্ধি করতে পারেননি কোনটা পুরসভা, কোনটা রাজ্য সরকার। সেই জায়গা থেকে কাউন্সিলরদের ক্ষোভ-বিক্ষোভও ছিল।”

ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্না আগরওয়াল বলেন,  “যে অভিযোগগুলি তারা করছেন, তা পুরসভার বৈঠকে বলার তাঁদের জায়গা ছিল। তাহলে তাঁরা বলেননি কেন? সমাজমাধ্যম ছিল সেখানেও তো এতদিন কিছু বলেননি। মন্ত্রীর সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আর এখন এ সব কথা বললে হবে না।”

তাঁর আরও সংযোজন, “গোটা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। ক্ষোভের সময় এক হয়ে থাকতে হয়। সমস্ত কালি আমার গায়ে মাখিয়ে নিজেরা যদি শুদ্ধ থাকতে পারে তাহলে ভালো। আমি কাউন্সিলর হিসেবে পদত্যাগ করিনি। মানুষের কাছে যাব তাদের কথা শুনব।”

আর এই প্রসঙ্গে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, “মুন্না আগরওয়াল পদত্যাগ করেছে। এর নীচে অনেক কিছু আছে। এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।সবে বিধায়ক হয়েছি,অনেক অভিযোগ পাচ্ছি। পুর নিগমের সব কিছুর তদন্ত চাইব মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। পালিয়ে কেউ বাঁচতে পারবে না।”


Share    

TMC