Terrorism

ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ, নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনা, চার বছর পরে মামলার দায়িত্ব নিল এনআইএ

বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ ও ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। ২০২২ সালের মামলার তদন্তভার চার বছর পরে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গেল।

এনআইএ-র জঙ্গি যোগ তদন্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯

বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে ২০২২ সালে মামলা দায়ের করেছিল রাজ‍্য পুলিশ। চার বছর পরে সেই ঘটনা নজরে এসেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএয়ের। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের হয়ে মডিউল তৈরি করার চেষ্টা করছে। ভারতের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। দেশে ‘শরিয়া আইন’ কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে এনআইএয়ের কলকাতার থানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে উত্তর ২৪ পরগনার শাসন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরের বছর, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে হাওড়ার স্টেশন থেকে দিনহাটার বাসিন্দা নান্নু মিঞাকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। শাসন থানায় দেশ বিরোধী কার্যকলাপ বিরোধী বা ইউএপি আইনের ১৬, ১৭, ১৮, ১৮বি, ১৯, ২০, ৩৮, ৩৯ এবং ৪০ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার সুত্র ধরে এনআইএ পৃথক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে এনআইএ। অভিযুক্তদের নাম—

1. আব্দুর রাকিব সরকার ওরফে হাবিবুল্লাহ (গঙ্গারামপুর)
2. কাজি এহসান উল্লাহ ওরফে হাসান (আরামবাগের বাসিন্দা। কলকাতার তোপসিয়ায় তার পরিবার থাকে)
3. মাহমুদ ওরফে মহম্মদ 
4. মহম্মদ সইফ ওরফে সরিফুল ওরফে মেহদি হাসান ওরফে উমর
5. মুফাক্কির ওরফে সামিদ আলি মিঞা ওরফে আবরার 
6. জুবেইর ওরফে সিদ্দিকি
7. মোয়াজ— বাংলাদেশের নাগরিক 
8. হাসান ওরফে নুর কাজিম— বাংলাদেশের নাগরিক
9. আব্দুল মান্নান— বাংলাদেশের নাগরিক 
10. আবু বক্কর ওরফে এক্রামুল
11. ইমাম ওরফে আজম (হাওড়ার বাঁকড়ার বাসিন্দা)
12. মেহমেদুর রহমান ওরফে মেহবুব
13. আব্দুল্লাহ ওরফে শাহদাত হোসেন 
14. আব্দুল্লাহ ওরফে বিহারি
15. মুফতি মুস্তাফা
16. মইনুদ্দিন তরফদার 
17. আমিরুদ্দিন আনসারি ওরফে রফিক
18. মামানুর রশিদ
19. আব্বুলাহ তালাহ ওরফে জাকির ওরফে সামিমুল্লাহ

অভিযোগ, এই চিহ্নিত ১৯ জন ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার (ভারতীয় উপমহাদেশ) বা একিউআইএস-এর সদস্য। সক্রিয় ভাবেই তারা ওই সংগঠনের হয়ে কাজ করেছে। ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর ছড়ানোর জন্য যুবকদের মগজধোলাই করে এই সংগঠনের সঙ্গে জুড়ত। ইসলামের চরমপন্থার প্রচার করত। তাদের লক্ষ্য ছিল দেশে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করা। শুধুমাত্র ভারত নয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা লক্ষ্য ছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গজয়া-ই-হিন্দ ঘোষণা করা। ইসলামিক শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করেছিল।

এই মামলায় আগে ২০২৩ সালে নানু মিঞাকে গ্রেফতার করলেও তদন্তের অগ্রগতি তৃণমূল জমানায় হয়নি। বিষয়টি নজরে আসতেই এনআইএ তদন্ত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করল।


Share