Accident

মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা! খোলা রেলগেট পেরোতেই স্কুলভ্যানে লোকাল ট্রেনের ধাক্কা, তিন পড়ুয়া-সহ চার জনের মৃত্যু

কর্ণসুবর্ণ স্টেশন ও গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝামাঝি একটি স্কুলগাড়িকে ধাক্কা মারে ডাউন লোকাল ট্রেন। প্রাথমিক অভিযোগ, রেলগেট খোলা থাকায় কোনও বাধা ছাড়াই গাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনটি এসে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে স্কুলগাড়িটি। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ১০:১৩

শুক্রবার ভোরে মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় ঘটে গেল রেল দুর্ঘটনা। কর্ণসুবর্ণ স্টেশন ও গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝামাঝি একটি স্কুলগাড়িকে ধাক্কা মারে ডাউন লোকাল ট্রেন। প্রাথমিক অভিযোগ, রেলগেট খোলা থাকায় কোনও বাধা ছাড়াই গাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনটি এসে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন জন স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছে আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালক। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় সাতটা নাগাদ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ডাউন লাইন দিয়ে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তার কিছুক্ষণ আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে গেলেও গোবিন্দপুর রেলগেটটি বন্ধ করা হয়নি। গেট খোলা থাকায় কয়েক জন স্কুলপড়ুয়াকে নিয়ে একটি স্কুলভ্যান রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময়ই দ্রুতগতিতে এসে স্কুলভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা মারে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল।

ট্রেনের প্রবল ধাক্কায় স্কুলগাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন জন স্কুলপড়ুয়া ও এক স্থানীয় বাসিন্দার। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বহরমপুর থানার পুলিশ। গুরুতর আহত চার জন পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে মোট পাঁচ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় স্কুলগাড়িটিতে মোট ১০ জন পড়ুয়া ছিল। এই ঘটনার পর লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, গেটম্যানের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নির্ধারিত সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করা হয়নি। আবার কয়েক জনের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলের তদন্তকারী দল। এ দিকে, দুর্ঘটনার পর চালকের ভাই বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, আপ লাইনে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেটম্যান লেভেল ক্রসিংয়ের গেট খুলে দেন। এরপর স্কুলভ্যানটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ডাউন লাইন দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনিও এই দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের গাফিলতিকেই দায়ী করেন। তাঁর প্রশ্ন, ট্রেন আসার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল? সেই সিদ্ধান্তের কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে মুর্শিদাবাদের রেল দুর্ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পূর্ব রেল। শুক্রবার সকালে এই ঘোষণা করেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই বহরমপুর থানার পুলিশ গেটম্যানকে গ্রেফতার করে। তবে সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে আপাতত সাময়িক বরখাস্তের বাইরে অন্য কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব রেল। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারপিছু পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।


Share