NIA Arrest Iman of Mongolkot

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ, বর্ধমানে মঙ্গলকোট থেকে গ্রেফতার মসজিদের ইমাম, বজবজ ও কুলপি থেকে ধৃত দু’জন

পিয়ার মহম্মদ শেখ মন্তেশ্বরের বাসিন্দা। এ দিন মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ নিয়ে সঙ্গে নিয়ে এনআইএর চার জনের একটি দল পালিশগ্রাম পূর্বপাড়ার মসজিদে যায়। মসজিদ থেকেই পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৭

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ধৃতের নাম পিয়ার মহম্মদ শেখ। ধৃত পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজ‍্যের পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে এনআইএ। অসমের ১০টি এবং কেরালামের একটি জায়গায় তল্লাশি চলছে।

পিয়ার মহম্মদ শেখ মন্তেশ্বরের বাসিন্দা। এ দিন মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ নিয়ে সঙ্গে নিয়ে এনআইএর চার জনের একটি দল পালিশগ্রাম পূর্বপাড়ার মসজিদে যায়। মসজিদ থেকেই পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। মসজিদের যে ঘরে ওই ইমাম থাকত সেই ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি ডাইরি এবং মোবাইল ফোন এনআইএ বাজেয়াপ্ত করেছে। সূত্রের খবর, ডাইরিতে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশির নম্বর তদন্তকারীরা পেয়েছেন। মসজিদ থেকে তাঁকে সঙ্গে করে মঙ্গলকোট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এনআইএ সূত্রের খবর, পিয়ার মহম্মদ শেখ বাংলাদেশে যাতায়াত করত। কী কারণে বাংলাদেশ যেত তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ। এমনকী, তিন বছরের মধ্যে ছ’মাস বাংলাদেশে কাটিয়ে এসেছে। কয়েক মাস আগে এ রাজ‍্যে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে অসমে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই মামলাতেই মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারির কুসকারি মুন্দেহার এলাকায় মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এনআইয়ের চার সদস্যের একটি দল যায়। এ দিন সকালে এনআইএ-র আধিকারিকরা মিজানুর রহমানের বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে কী কী উদ্ধার হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

এনআইয়ে সূত্রের খবর, মিজানুরের পরিবারের রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁর ছেলে মুজিবুর রহমান (২৬) উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির বাইরে। কোথায় রয়েছে তার খোঁজ পরিবারের কাছেও নেই বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি মুজিবর ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে পরিবার দাবি করেছে। গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মুজিবুর বংশীহারির বাড়িতেই ছিলে। তার পর থেকেই তাঁর আর খবর নেই।

অন‍্য দিকে, বজবজের মিঠাপুকুরের বাসিন্দা জুম্মান শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জুম্মান পেশায় দর্জি। এ ছাড়াও, পাশের গ্রাম বলরামপুরে এনআইএয়ের আধিকারিকেরা যান। সেখানে শাহারুল পুরকাইত নামে নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে যায়। ১৫ বছর ধরে শাহারুল সেখানেই বসবাস করছে। তাঁর আসল বাড়ি কুলপির পশ্চিম রঘুনাথপুরে। শাহারুল অ‍্যাপ ক‍্যাব বাইক চালক। তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারে শাহারুল কুলপিতে রয়েছে। সেখান থেকেই শাহারুলকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দু’জনকেও ট্রানজিট রিমান্ডে অসমে নিয়ে যাবে এনআইএ।

আল কায়দা উপপমাহাদেশ (একিউআইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জামাতুল মুজাহিদিন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে অসমে ‘জামাতুল মুজাহিদিনের’ ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘ইমাম মাহমুদুর কাফিলা’ নামে সংগঠনের একাধিক সদস্য গ্রেফতার হন অসম পুলিশের হাতে। তদন্তে উঠে আসে, ‘জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের’ এই ছায়া সংগঠনটি অসম ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরাতেও জাল ছড়িয়েছে। ওই মামলাতেই উঠে আসে শাদ রাডির নাম। বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসে মুর্শিদাবাদে আত্মীয়দের সাহায্যে ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন। এ দেশের ভোটার তালিকাতেও নাম তুলিয়ে নিয়েছিলেন শাদ।

এই মামলায় গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে ইতিমধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রের খবর, এই জঙ্গিযোগের তদন্তে ধৃতদের জেরা করে এ রাজ্যে আরও বেশ কিছু স্লিপার সেলের হদিস পায় এনআইএ। সেই স্লিপার সেলের খোঁজেই মঙ্গলবার তল্লাশি শুরু জেলায় জেলায়।


Share