Murshidabad Medical

হাসপাতাল চত্বরে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে লুট টাকা-গয়না! চিকিৎসা করাতে দুষ্কৃতীদের খপ্পরে রোগীর পরিবার, মুর্শিদাবাদের ঘটনা

ঘটনায় বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২৬

চিকিৎসা করাতে এসে খোয়ালেন টাকা এবং সোনার গয়না। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মা আর ছেলেকে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে সর্বস্ব লুট করে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ সুত্রের খবর, শনিবার সকালে অমিয় বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী প্রিয়া বিশ্বাসকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেলের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করান। অমিয় বেলডাঙার নওদার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ওই দিন রাতে মা মঞ্জুশ্রী বিশ্বাসের সঙ্গে হাসপাতাল চত্বরে শুয়ে ছিলেন অমিয়। শবরী মন্ডল নামে এক প্রত‍্যক্ষদর্শী জানান, এক ব‍্যক্তিকে তিনটি ঠান্ডা পানীয়ের প‍্যাকেট নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। পরে সেই ঠান্ডা পানীয়গুলি অমিয় এবং মঞ্জুশ্রীকে খেতে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

পরের দিন সকালে তাঁর পরিবারের আরেক সদস্য হেমন্ত বাগদি হাসপাতালে আসেন। ঘড়িতে তখন সকাল ৭টা। মা-পুত্রকে ডাকাডাকি করলে ঘুম থেকে না ওঠায় সন্দেহ হয়। মায়ের জ্ঞান ফেরে। ছেলেকে কোনও ভাবে ঘুম থেকে তোলার পরে হেমন্ত একটি ওআরএস খেতে দেন। কিন্তু খাওয়ার সময়ই অমিয় রক্তবমি করা শুরু করে। তৎক্ষণাৎ অমিয়কে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে তাঁকে ভর্তি করে নেওয়া হয়। অমিয় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তাঁর শ্বশুর নব মন্ডল এবং তাঁর বাকি পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতীরা ৩৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে। মঞ্জুশ্রীর সোনার কানের দুল এবং আংটিও লুট করা হয়েছে। লুট হওয়া গয়নার মূল্য এক লক্ষ টাকা বলে তাঁরা দাবি করেন।

লব মন্ডল বলেন, “এত বড় হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা কোথায়?” ঘটনায় বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনা নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী জানান, এই ঘটনা একেবারেই কাম‍্য নয়। তিনি এই ঘটনার দায় রোগীর পরিবারের ওপরেই ঠেলে দিয়েছেন। বলেন, “অপরিচিত কারও কাছ থেকে খাবার না খাওয়ার জন্য বারবার মাইকে সচেতন করি। কিন্তু তার পরেও মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতা অভাব রয়েছে।” তবে হাসপাতাল চত্বরে যে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরী।


Share