Show Cause Notice

মেদিনীপুর মেডিকেলে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন-কাণ্ডে পাঁচ আধিকারিক-কর্মীকে শোকজ স্বাস্থ্যভবনের, তদন্তে উঠে এল একের পর এক গাফিলতির অভিযোগ

শোকজের নোটিশ পেয়েছেন হাসপাতালের এক জন সিস্টার ইনচার্জ, এক জন স্টাফ নার্স, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত হাসপাতাল সুপার এবং স্টোর ইনচার্জ।

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:২৪

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনায় হাসপাতালের পাঁচ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশিকা মেদিনীপুর মেডিকেলে পৌঁছোয়।  শোকজের নোটিশ পেয়েছেন হাসপাতালের এক জন সিস্টার ইনচার্জ, এক জন স্টাফ নার্স, অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত হাসপাতাল সুপার এবং স্টোর ইনচার্জ। ঘটনার দিন কীভাবে এই গাফিলতি ঘটল এবং তার জন্য কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও তলব করেছে স্বাস্থ্যভবন।

গত বুধবার মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মানসী দে নামে এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরেরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, স্বাস্থ্যভবনের তরফে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে পৌঁছে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের স্যালাইনের মজুত ব্যবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি, ওয়ার্ডে স্যালাইন সরবরাহের প্রক্রিয়া, ব্যবহার এবং তদারকির দায়িত্বে কারা রয়েছেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর প্রতিনিধি দল তাদের তদন্ত-রিপোর্ট স্বাস্থ্যভবনে জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পাঁচ জনকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোগিণীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে এই গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এত বড় একটা হাসপাতালে এমন ভুল হয় কী করে? এই গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া দরকার।’ শোকজের বিষয়টি জানার পরে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে বের করতে হবে। কার গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটছে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে।’

উল্লেখ্য, অতীতেও মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ড ঘিরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্যালাইন দেওয়ার পর পাঁচ জন প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয় হাসপাতালেই। বাকি চার জনকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে আরও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। অন্য তিন জন পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। তবে মেদিনীপুর মেডিকেল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরলেও এক প্রসূতির নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।


Share