Police Transfer

নেপথ‍্যে মাটি পাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ? বিধায়কের দাবির পরেই উত্তরপাড়া থানার আইসিকে সরাল ভবানী ভবন, রাজ‍্যজুড়ে ২০ জনের বদলি

উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক গত কয়েক দিন আগে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। শুধু মাত্র উত্তরপাড়া নয়, চুঁচুড়া থানার আইসি রামেশ্বর ওঝাকে সরিয়ে পুরুলিয়ার ডিআইবিতে পাঠানো হয়েছে। চুঁচুড়া থানার আইসি হয়েছেন উত্তম শর্মা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০১:১০

সরানো হল উত্তরপাড়া থানার আইসি বিপ্রজিৎ সরকারকে। কিছু দিন আগে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নিজেই ওই আইসির বিরুদ্ধে মাটি পাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন। ওই থানায় নতুন আইসি হলেন বিকাশ দত্ত। তিনি এর আগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে ছিলেন। বিপ্রজিতকে রানাঘাট পুলিশ জেলায় মিসিং পার্সন ব্যুরো-তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ জুলাই গভীর রাতে বিজেপির কর্মীরা তিনটি মাটি বোঝাই ডাম্পার আটক করে গাড়ি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কোন্নগড়ের কানাইপুরে ‘শ্রীরাম প্রপার্টিজ’ নামে একটি নির্মাণ সংস্থা বিরুদ্ধে মাটি পাচারের অভিযোগ ওঠে।কানাইপুরে ওই নির্মাণ প্রজেক্টে বহুদিন ধরেই কাজ চলছে। তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে এনে সেখানে ফেলা হত। মাটি মাফিয়াদের দাপটে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ। বিজেপি কর্মীদের দাবি, এই মাটি মাফিয়াদের থেকেই পরিত্রাণ পেতেই পদ্মফুলে মানুষ ভোট দিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি মাটি, বালি, পাথর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন। রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে প্রাকৃতিক সম্পদ পাচার বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তার পরেও কানাইপুরে রাতের অন্ধকারে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি মাটির ব্যবসা অব‍্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মদতে এই কাজ হচ্ছে বলেও দাবি করে তাঁরা। তাঁদের এ-ও দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে পরে বিপুল আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও কোনও ভাবেই মাটি মাফিয়াদের দাপট বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, এর আগেও বেশ কয়েক বার রাতের অন্ধকারে মাটি পাচার রুখতে  উত্তরপাড়া বিধানসভার স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উদ্যোগী হয়েছিল।

উত্তরপাড়া বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, গত দেড় দশক ধরে উত্তরপাড়ায় যে মাফিয়া চলেছে তা এখনও নির্মূল হয়নি। বিজেপি বিধায়ক এর জন্য স্থানীয় পুলিশকে দায়ী করেন। কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে রাত দেড়টার সময় আমাদের ছেলেরা ওখানে গিয়ে আটকাতে যায়। তখন উত্তরপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আমাদের ছেলেদের দায়ী করছিল। আমি উত্তরপাড়া থানার আইসির বিরুদ্ধে কমিশনার এবং বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছি।” সরকার অবস্থান স্পষ্ট করে বিধায়ক দীপাঞ্জন আরও বলেছিলেন, “শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন মাফিয়ারাজ, সিন্ডিকেটরাজ আমরা নির্মূল করে ছাড়ব। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি।”

পুলিশ সূত্রের খবর, সেই ঘটনার পরে বিপ্রজিৎ সরকারকে নিয়ে পুলিশ বিভাগেই বিস্তর চর্চা হয়। সেদিনের ঘটনা নিয়ে চন্দনগর কমিশনারেটের এক আধিকার জানিয়েছিলেন, “গাড়িগুলি শ্রীরামের প্রপার্টিজের উদ্দেশ্যে ঢোকে। ইদানিং বিজেপি নেতারা সেখানে গিয়ে তাদের আটকাচ্ছেন। নির্মাণ সংস্থা শ্রীরামেরও একটা সমস্যা রয়েছে— তাঁদের কাছে কোনও রকম কাগজ নেই। তা না থাকায় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাতে বিজেপি কর্মীরা তাদের আটকায় তারপর পুলিশ গিয়ে গাড়িগুলোকে আটক করে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর অভিযোগের পরেই বিপ্রজিতকে সরানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়কের এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শুধু মাত্র উত্তরপাড়া নয়, চুঁচুড়া থানার আইসি রামেশ্বর ওঝাকে সরিয়ে পুরুলিয়ার ডিআইবিতে পাঠানো হয়েছে। চুঁচুড়া থানার আইসি হয়েছেন উত্তম শর্মা।

এ ছাড়াও, রাজ‍্যজুড়ে ২০ জন ইন্সপেক্টরের বদলি করা হয়েছে। তার মধ্যে জামাল হোসেনকে কাকদ্বীপ কোর্টের ইন্সপেক্টর করা হয়েছে। তিনি এর আগে সাঁতরাগাছি থানার আইসি ছিলেন। সৌমজিৎ মল্লিককে বারাসত কোর্টের ইন্সপেক্টর করা হয়েছে। তিনি এর আগে জলপাইগুড়ির মালবাজার থানার আইসি ছিলেন।


Share