Baruipur Incident

‘নাম পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছ,’ বারুইপুরে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা, দাদাকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেন। ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন তিনি। ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মন্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেন। সূর্যপুর ফাঁড়িতেই তিনি চাকরি করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০১:৫৩

বারুইপুরের গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের নাম এবং পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। শনিবার সূর্যপুরের ফাঁড়ি উদ্বোধনের পরে এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর নেপথ্যে চরমপন্থীরা থাকতে পারে। ভোটে যারা হেরেছে এবং অতিবামেরা থাকতে পারে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার বলেন, “ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে প‍্যায়ার-মহব্বত হবে না।”

গত মঙ্গলবার সূর্যপুরের ঘটনা নিয়ে বারুইপুরে জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে বৈঠক করেন। ঠিক হয় সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ির তৈরি হবে। শনিবার সকালে সেই ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। তার আগে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তার পরে নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলেন। ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন তিনি। ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মন্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেন। সূর্যপুর ফাঁড়িতেই তিনি চাকরি করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন।

ফাঁড়ি উদ্বোধনের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইন্দ্রজিৎ মন্ডলকে নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। গত সোমবারই তিনি বলেছিলেন, ইন্দ্রজিতকে গণপিটুনি দেওয়ায় নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক দিক রয়েছে। ধর্মীয় পরিচয় দেখেই যে নির্দোষ ইন্দ্রজিতকে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করা হয়েছে, এ দিনের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

আন্দোলনের নাম করে দুষ্কৃতীরা যে এই ঘটনাটিকে সংগঠিত করেছে বলেও শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন। এই ঘটনার নেপথ্যে যে বা যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে আগেই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন গ্রেফতার হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাদের এক জনকে বকখালি এবং এক জনকে দিঘা থেকে গ্রেফতার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যেমন কঠোর শাস্তি হবে, তেমনি ইন্দ্রজিতের খুনিদেরও চরম এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে প‍্যায়ার-মহব্বত হতে পারে না। হেফাজতে থাকাকালীনই দোষীদের ট্রায়াল হবে। মুখ‍্যমন্ত্রী নিজে তা মনিটর করবে।”

গণপিটুনি এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় সোমবার তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার আবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোটে যারা রিজেক্ট হয়েছে তাঁদের উস্কানি থাকতে পারে। চরমপন্থীরাও থাকতে পারে। আমি তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। ভিডিয়োতে যাদের দেখা গিয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে।” গণপিটুনি এবং অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় ২০০ জনকে ভিডিয়ো দেখে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। মুখ‍্যমন্ত্রী বলেন, পিছন থেকে যারা ফোন করে, মেসেজ করে উস্কানি দিয়েছে, পুলিশ তাদের চিহ্নিত করবে। যে রাজনৈতিক দলেরই বা হোক না কেন, পুলিশকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছ।” যারা রেললাইনের ওপর লোহার বিম রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল, তারা রাষ্ট্রপ্রেমী হতে পারে না।”

মুখ‍্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পরে নিহত ইন্দ্রজিতে দাদা বাপি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাশে আছি। আপনারা ভাল থাকুন। সরকার আপনাদের সহযোগিতা করবে। কাজ দিয়েছি। করো। বাবা-মার সেবা করো। বাবা-মাকে কষ্ট দিও না।”


Share