Soil Smuggling

উত্তরপাড়ায় অব্যাহত মাটি পাচার, নির্মাণ সংস্থার গাড়ি আটকাল বিজেপির কর্মীরাই, ঘটনায় আটক তিনজন

চন্দনগর কমিশনারেটের এক আধিকার জানান, “গাড়িগুলি শ্রীরামের প্রপার্টিজের উদ্দেশ্যে ঢোকে।ইদানিং বিজেপি নেতারা সেখানে গিয়ে তাদের আটকাচ্ছেন। নির্মাণ সংস্থা শ্রীরামেরও একটা সমস্যা রয়েছে— তাঁদের কাছে কোনও রকম কাগজ নেই। তা না থাকায় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।“

কানাইপুরে শ্রীরাম প্রপার্টিজের নির্মাণ প্রকল্প।
প্রীতম সাধুখাঁ, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১১:২৭

পালাবদলের পরেও বেআইনি মাটি পাচার অব্যাহত হুগলির উত্তরপাড়ায়। পুলিশের যে কাজ করার কথা সেই কাজ করল বিজেপির কর্মীরা। নির্মাণ প্রজেক্টে ঢোকার সময় মাটি বোঝাই গাড়িগুলি ধরা হয়েছে। তা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে কোন্নগড়ের কানাইপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে শ্রীরাম প্রপার্টিজ নামে একটি নির্মাণ সংস্থা বহুতল নির্মাণ করছে। সেখানেই মাটি বোঝাই ডাম্পার বিজেপির কর্মীরা আটক করে। প্রায় তিনটি গাড়ি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনায় দু’জনকে পুলিশ আটক করেছে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

কানাইপুরে ওই নির্মাণ প্রজেক্টে বহুদিন ধরেই কাজ চলছে। তৃণমূল জমানায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে এনে সেখানে ফেলা হত। মাটি মাফিয়াদের দাপটে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ। বিজেপি কর্মীদের দাবি, এই মাটি মাফিয়াদের থেকেই পরিত্রাণ পেতেই পদ্মফুলে মানুষ ভোট দিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি মাটি, বালি, পাথর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন। রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে পাচার বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তার পরেও কানাইপুরে রাতের অন্ধকারে বেআইনি মাটির ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মদতে এই কাজ হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের এ-ও দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে পরে বিপুল আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও কোনও ভাবেই মাটি মাফিয়াদের দাপট বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, এর আগেও বেশ কয়েক বার রাতের অন্ধকারে মাটি পাচার রুখতে উত্তরপাড়া বিধানসভার স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা উদ্যোগী হয়েছিল।

উত্তরপাড়া বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জানান, গত দেড় দশক ধরে উত্তরপাড়ায় যে মাফিয়া চলেছে তা এখনও নির্মূল হয়নি। বিধায়কের বক্তব্য, এর জন্য পুলিশ দায়ী। মাটি মাফিয়াদের ওপরে পুলিশ হাত রয়েছে। কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে রাত দেড়টার সময় আমাদের ছেলেরা ওখানে গিয়ে আটকাতে যায়। তখন উত্তরপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আমাদের ছেলেদের দায়ী করছিল। আমি উত্তরপাড়া থানার আইসির বিরুদ্ধে কমিশনার এবং বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছি।” সরকার অবস্থান স্পষ্ট করে বিধায়ক দীপাঞ্জন বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন মাফিয়ারাজ, সিন্ডিকেটরাজ আমরা নির্মূল করে ছাড়ব। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি।”

চন্দনগর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানান, “গাড়িগুলি শ্রীরামের প্রপার্টিজের উদ্দেশ্যে ঢোকে। ইদানিং বিজেপি নেতারা সেখানে গিয়ে তাদের আটকাচ্ছেন। নির্মাণ সংস্থা শ্রীরামেরও একটা সমস্যা রয়েছে— তাঁদের কাছে কোনও রকম কাগজ নেই। তা না থাকার কারণে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাতে বিজেপি কর্মীরা তাদের আটকায়। তারপর পুলিশ গিয়ে গাড়িগুলোকে আটক করে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতা অচ্ছেলাল যাদব বলেন, “এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কোথাও কোনও বেআইনি কাজ হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। প্রতিবাদও হবে।” এই বিষয়ে শ্রীরাম প্রপার্টিজের প্রজেক্টের ডিরেক্টর সুকান্ত মন্ডলকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি।


Share