Sand Smuggling

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে অমান্য করে উত্তরপাড়ার গঙ্গাবক্ষ থেকে বালি চুরি অব্যাহত! গ্রেফতার দু’জন, ব‍্যর্থতা স্বীকার বিজেপি বিধায়কের

ধৃতদের কাছ থেকে একটি নৌকা ও প্রায় ৪০০০ ঘনফুট সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্বীকার করে বালি পাচারের জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী।

উত্তরপাড়া গঙ্গাবক্ষ থেকে চলছে বালি চুরি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৫

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন— বালি চুরি করে পাচার বন্ধ করবে পুলিশ। সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হুগলির উত্তরপাড়ার গঙ্গা থেকে বালি চুরি করে পাচার অব্যাহত রয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। বালি চুরি করে তা ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বালি পাচার চক্র রুখতে প্রশাসনিক ব‍্যর্থতা স্বীকার করেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তবে গোটাটা তৃণমূলের ওপরে চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। পুলিশকে কঠোর হতে তিনি নির্দেশ দেবেন বলেও জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিষয়ে আগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। উত্তরপাড়ার গঙ্গা থেকে বালি চুরি করে পাচারের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তার পরে পুলিশ তৎপর হয়ে বালি চুরি বন্ধ করে। পুলিশের নজরদারি কমতেই কিন্তু আবার বালি চুরি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে একে বারে প্রকাশ‍্য দিবালোকে নৌকা নামিয়ে গঙ্গাবক্ষ থেকে বালি তুলে তা ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই আবার তৎপর হয়েছে পুলিশ। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা দাবি করেন, প্রশাসন এর আগে বালি তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করেছিল। মঙ্গলবার সকালে আবারও খবর আসে, আমরা ঘটনা খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করব। মঙ্গলবার রাতেই দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম কুন্দন সাহানী ও লক্ষ্মণ সাহানী। ধৃত দু’জনই উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। 

পুলিশের বক্তব্য, এই দু’জনই গঙ্গা থেকে সাদা বালি তুলে পাচার করছিল। দুটি ইট ভাটা থেকে একটি নৌকা এবং প্রায় ৪০০০ ঘনফুট সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করেছে। ভাটার সময় গঙ্গা নদীর তীর থেকে এই বালি সংগ্রহ করা হয়েছিল। নৌকা করে সেই বালি তুলে নিয়ে আসা হচ্ছিল। তারপর ছোটো গাড়ি করে অন্যত্র বালি পাচার হচ্ছিল। 

পুলিশের আরও দাবি, ধৃতরা জেরা স্বীকার করেছে, তাঁরা বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে গঙ্গা নদীর তীর থেকে এই বালি তুলছিলেন। উত্তরপাড়া থানায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহতিতার একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বুধবার দুপুরে শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করা হবে বলে এক পুলিশকর্তা  জানিয়েছেন।

তবে ব‍্যর্থতা স্বীকার করেছেন উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, তাঁর বিষয়টি জানা ছিল না। তিনি মনে করেন, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। বালি পাচারে অনেকেই জড়িত রয়েছে বলে। এখনও প্রশাসনের ভিতরে তৃণমূলের লোকজন ঢুকে বসে রয়েছে। দীপাঞ্জন বলেন, “এখন যখন জেনেছি এরপর থেকে আগামী পাঁচ বছর আর এ সব হতে দেব না। আমি গোটা বিষয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলেছি। উত্তরপাড়া থানার ওপর আস্থা আছে। যারা এ সব করছে তারা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল।”

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের রদবদলে হয়েছে। মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বালি পাচার রুখতে পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তার পরেও কাদের মদতে এই বালি চুরি হচ্ছে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যেখানে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে গঙ্গা থেকে বালি চুরি রুখতে কড়া প্রশাসন, সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে উত্তরপাড়া শহরের গঙ্গাবক্ষ থেকে অবাধে চুরি হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আবার স্থানীয় প্রশাসনের মদত ছাড়া যে বালি চুরি কোনও ভাবেই সম্ভব নয় তা বিজেপিরই কেউ কেউ তা-ও মনে করছেন।


Share