Anti Corruption Branch

ঘুষের টাকা জমিতে বিনিয়োগ! হুগলি জেলা পারিষদের প্রাক্তন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ, খবর সূত্রের

পুজোর আগে চলতি সপ্তাহে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও সরকারি আধিকারিক। ধৃতের নাম সুমন দাস। তিনি হুগলি জেলা পারিষদের WBSRDA-র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন।

ধৃতের নাম সুমন দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫০

ধৃত হুগলি জেলা পারিষদের প্রাক্তন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমন দাসের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রের খবর, গত ৬ এবং ৭ অক্টোবর চুঁচুড়ার বড়বাজারে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই তল্লাশিতে এক কোটি ৩২ লক্ষ টাকার সম্পত্তির সন্ধান তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এসিবি সূত্রের খবর, ঘুষের টাকা জমি কেনাবেচার বিনিয়োগ হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা, এসিবি। এসিবি সূত্রের খবর, ধৃত সুমন দাসের চুঁচুড়ার বড়বাজারের বাড়িতে গত ৬ এবং ৭ অক্টোবর তদন্তকারী আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালান। সেখান থেকে সুমন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ৭৩টি আপত্তিকর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সমস্ত নথি বিনিয়োগ সংক্রান্ত। প্রাথমিক তদন্তে ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকার সম্পদ এবং বিনিয়োগের হদিশ তাঁরা পেয়েছেন। সূত্রের খবর, এই নথির মধ্যে কিছু জমি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, গত পাঁচ বছরে ধৃত সুমন দাসের সম্পত্তির পরিমাণ রকেটের গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর বছরের আয়ের সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এই চক্রের নেপথ্যে যে আরও অনেকে রয়েছেন তা-ও অস্বীকার করতে পারছেন না এসিবি-র আধিকারিকেরা। অসৎ উদ্দেশ্যে অর্জিত অর্থের লেনদেন লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র তদন্তকারীরা যাচাই করছেন।

পুজোর আগে চলতি সপ্তাহে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও সরকারি আধিকারিক। ধৃতের নাম সুমন দাস। তিনি হুগলি জেলা পারিষদের WBSRDA-র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, মুক্তরাম ঘোষ নামে হুগলির পোলবার এক ঠিকাদার পঞ্চায়েতের রাস্তা নির্মাণের কাজের প্রায় ১ কোটি টাকার বরাত পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালের শেষের দিকে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়। এরপর টেন্ডারের সময় জমা দেওয়া ‘আর্নেস্ট মানি’ ফেরতের জন্য জেলা পারিষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করেছিলেন মুক্তরাম ঘোষ নামে ওই ঠিকাদার। ২ লক্ষ ৬ হাজার টাকা তিনি পেতেন।

অভিযোগ, সেই টাকা পাইয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন WBSRDA-র সাব-অ‍্যাসিস্ট‍্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমন দাস। তার বিনিময়ে ঘুষ চাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হন। তাঁকে সামনে রেখেই ফাঁদ পাতা হয়। এ দিন সকালে চুঁচুড়ার জেলা পরিষদের দফতরে টাকা নিয়ে সুমন দাসকে দিতে যান। টাকায় কেমিক্যাল মাখানো ছিল। হাতেনাতে সুমনকে ধরে ফেলে এসিবি। তাঁকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে দফতর।


Share