Gold Recovered

বাইকে চেপে সোনা পাচার! নদিয়ায় উদ্ধার ২৪ কেজি সোনা, ডিআরআইয়ের জালে সিন্ডিকেটের সাত জন

উদ্ধার হওয়া বিদেশি সোনার বিস্কুটগুলির মোট ওজন প্রায় ২৪ কেজি। এর বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে পাচার হওয়া সোনা সংগ্রহ করেছিল।

উদ্ধার কেজি কেজি সোনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০২:০৪

নদিয়ায় উদ্ধার কেজি কেজি সোনা। সাত পাচারকারীকে ডিআরআই গ্রেফতার করেছে। ২৪ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে। ডিআরআই জানিয়েছে, মোট ৩৪ কোটি টাকার সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ডিআরই সূত্রের খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি দল নদিয়ার কৃষ্ণনগর যায়। তাঁরা দেখতে পায় কয়েক জন মোটরবাইকে চেপে রানাঘাটের দিকে আসছিল। কৃষ্ণনগর থেকে চাকদহের মাঝে জাতীয় সড়কে পাচারকারীদের দাঁড় করানো হয়। পাচারকারীদের তল্লাশি চালিয়ে ১৮০টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়েছে। ডিআরআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সোনাগুলিতে বিদেশি চিহ্ন রয়েছে। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। সোনার বিস্কুটগুলি বিশেষ ভাবে তৈরি কাপড়ের বেল্টের মধ্যে কোমরের কাছে এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।

উদ্ধার হওয়া বিদেশি সোনার বিস্কুটগুলির মোট ওজন প্রায় ২৪ কেজি। এর বাজারমূল্য আনুমানিক প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে পাচার হওয়া সোনা সংগ্রহ করেছিল। তা অন্য একদল বাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। এই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত সাত জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং তা কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তা জানার চেষ্টা করেছে তদন্তকারীরা। 

গত মাসে পৃথক অভিযানে ডিআরআই দিল্লিতে একটি অবৈধ সোনা গলানোর ইউনিট ধ্বংস করেছে। দেশজুড়ে সক্রিয় একাধিক সোনা পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ন’কেজি পাচার হওয়া সোনা, ৪২ কেজি রুপো এবং ৮.৫ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করেছে। অন্য এক বিবৃতিতে অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, ডিআরআই দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে দিল্লিভিত্তিক একটি সোনা পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে। এই চক্র উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিভিন্ন ট্রেনে একাধিক বাহকের মাধ্যমে দিল্লিতে বিদেশি সোনা পাচার করত। ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে পাচারচক্রটি বাহকদের যাতায়াত আলাদা আলাদা সময়ে ভাগ করে পরিচালনা করত। তারা দিল্লির একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ ভাবে সোনা গলানোর ইউনিট চালাত।

গত ২৬ জুন ডিআরআই আধিকারিকেরা পশ্চিমবঙ্গের নিউ কোচবিহার রেলস্টেশন এবং বিহারের মানসি জংশনে দুই বাহককে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে শরীরে লুকিয়ে রাখা প্রায় দু’কেজি ওজনের সোনার বাট উদ্ধার হয়। একই সময়ে দিল্লিতে আরও দুই ব্যক্তিকে প্রায় এক কেজি ২০০ গ্রাম পাচার হওয়া সোনা সমেত আটক করা হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে দিল্লিতে একটি অবৈধ সোনা গলানোর কারখানার সন্ধান মেলে। চার জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই দিনে অন্য একটি অভিযানে ডিআরআই আধিকারিকের ট্রেনে সাইরাং থেকে কলকাতাগামী এক মহিলা বাহককে আটক করেন। তার কাছ থেকে বিদেশি ভাষায় চিহ্নিত ২০টি বিদেশি সোনার বাট উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় তিন কেজি ৩০০ গ্রাম। সোনাগুলি একটি বিশেষ ভাবে তৈরি কোমরের বেল্টে লুকানো ছিল। ওই মহিলাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, চেন্নাইয়ে একটি বড় চোরাচালান চক্রের সন্ধান পেয়েছে। তারা দেশীয় এয়ার কার্গো ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা পাচার করে। সেই অর্থ ব্যবহার করে ভারতে সোনা ও রুপো পাচার করে। চেন্নাই এয়ার কার্গোতে তল্লাশি চালিয়ে ডিআরআই আধিকারিকেরা ৭,৫৮,৫০০ মার্কিন ডলার এবং ৩৫ লক্ষ তাইল‍্যান্ডের  উদ্ধার করে। যার মোট মূল্য প্রায় ৮ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। তদন্তে জানা গেছে, এই বিদেশি মুদ্রা বিভিন্ন মাধ্যমে ভারত থেকে পাচার করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছিল। পরে সেই অর্থ ব্যবহার করে মূল্যবান ধাতু (সোনা ও রুপো) ভারতে পাচার করা হচ্ছিল।

তদন্তের সূত্র ধরে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে দুবাই থেকে ফেরা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে এক কেজি ৮০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪২ কেজি রুপো, ৭০০ গ্রাম সোনার গয়না এবং ২৬ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে ভারতে অবৈধ ভাবে বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ, তা বিদেশে পাচার এবং পরে সেই অর্থের মাধ্যমে সংগঠিত ভাবে সোনা ও রুপো পাচারের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।


Share