Recovery of Firearms

মাছের বদলে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র! সন্দেশখালির পুকুরে এসটিএফের অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার

তল্লাশির সময় বাড়ির পাশের একটি পুকুরকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এরপর পুকুরের জলে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়।

উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দেশখালি
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৮:৫৫

সন্দেশখালিতে মাছ চাষের পুকুর থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিস পেয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা রবিন দাস ও তাঁর ভাই গোপাল দাসের বাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় এসটিএফ। অভিযানে অংশ নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। তল্লাশির সময় বাড়ির পাশের একটি পুকুরকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেখানে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এরপর পুকুরের জলে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়।

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অস্ত্রগুলি মজুত রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করর দেখছে এসটিএফ।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রবিন ও গোপাল দাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপরও অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অস্ত্র উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “পুকুর থেকে তো আগে মাছ উঠত। তৃণমূল না থাকলে জানতে পারতাম না যে পুকুর থেকে গুলি-বোমা-বন্দুকও ওঠে! এরা আসলে পৃথিবীর নবম আশ্চর্য।” যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সন্দেশখালির এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত এগোলে অস্ত্র মজুতের নেপথ্যে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।


Share