Hamim Mondal Case

হাওড়ায় ইসলামিক জঙ্গি হামিমের ফ্ল‍্যাটের হদিশ, রবিবার সকাল থেকেই চলল তল্লাশি অভিযান, এলাকায় নেওয়া হল খোঁজখবর

তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল। সংশ্লিষ্ট কারখানায় মূলত পোশাকের ট্যাগ লাগানোর কাজ করা হত।

হাওড়ার ফ্ল‍্যাটে তল্লাশি চালাল এসটিএফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ১১:২০

পাকিস্তানি ইসলামিক জঙ্গি হামিম মণ্ডলের হাওড়ায় থাকা একটি কারখানার সন্ধান পেল তদন্তকারী দল। প্রাথমিক তদন্তেই জানা গিয়েছিল, হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত পিলখানা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। সেই সূত্র ধরেই রবিবার সকালে পিলখানার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে অভিযান চালিয়ে হামিমের সঙ্গে যুক্ত একটি কারখানার খোঁজ মেলে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল। সংশ্লিষ্ট কারখানায় মূলত পোশাকের ট্যাগ লাগানোর কাজ করা হত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট মাস ধরে ওই ঘর ভাড়া নিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করছিলেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বাবার ব্যবসার কাজে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হামিম। কারখানায় এক জন মহিলা-সহ মোট চার জন কর্মী কাজ করতেন। পাশাপাশি, একই আবাসনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন পাকিস্তানি জঙ্গি হামিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

এ দিকে, তদন্তে উঠে এসেছে হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আজমল গুজ্জরের সরাসরি যোগাযোগের তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান থেকে ভারতে মাদক ও অস্ত্রপাচার, সেই মাদকচক্রের অর্থ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতা এবং একাধিক খুনের ঘটনায় শাহজাদ ভট্টি চক্রের যোগ মিলেছে। ভারতীয় তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই পুরো নেটওয়ার্কের নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সেই চক্রের সঙ্গেই যুক্ত হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা পাকিস্তানি জঙ্গি হামিম মণ্ডল। এখন তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, পিলখানার এই কারখানাটি শুধুই ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত হত, নাকি এখান থেকেই কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। গ্রেফতারের পরই জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাঁকে বর্ধমান থেকে কলকাতায় নিয়ে আসে তদন্তকারী দল।

তদন্তকারীদের দাবি, সমাজমাধ্যমে করা একটি মন্তব্যের সূত্র ধরেই শাহজাদের সঙ্গে হামিমের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। এসটিএফের দাবি, শাহজাদ এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল হামিমের। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে তাঁর কাছে অর্থ পৌঁছেছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্যে একাধিক দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

যদিও সেই দায়িত্বের প্রকৃতি বা সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তদন্তকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার সম্ভাব্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের উপর নজরদারির দায়িত্বও হামিমকে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই তালিকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। উদ্ধার হওয়া নথি ও চ্যাট বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি তদন্তকারীরা।

গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজাদের অপরাধের ধরন বেশ সুপরিকল্পিত। স্থানীয় যুবকদের কাজে লাগিয়ে ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটানো থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হত্যার ছক কষাই তার কৌশল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, মুম্বইয়ে বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডেও লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিল শাহজাদ। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সেই পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ এ ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে প্রয়োজন অর্থ, অস্ত্র এবং শক্তিশালী লজিস্টিক নেটওয়ার্ক। পাকিস্তানি জঙ্গি হামিম কত টাকা পেয়েছিলেন, তাঁর হাতে কোনও অস্ত্র বা মাদক পৌঁছেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদ গোষ্ঠীর সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছিল, যা নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক।


Share