ISI Agent

‘বাচ্চাদের সামলে রাখিস, বাড়ি আর নাও ফিরতে পারি,’ স্ত্রীকে ফোন করে বলেছিল জাফর, রাস্তায় ধাওয়া করে ধরল এসটিএফ

পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তোপসিয়ার জাফর শাম ওরফে সানিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। পুলিশের দাবি, রানাকে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং হাওড়ার সালকিয়ায় কাজের ব্যবস্থা করে দিতে সাহায্য করেছিল জাফর।

পাক গুপ্তচর রানা রউফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১৪

বাচ্চাদের সামলে রাখিস। বাড়িতে আর ফিরতে নাও পারি। গ্রেফতারির আগে স্ত্রীকে ফোন করে এমনটাই বলেছিল জাফর শাম ওরফে সানি।

স্থানীয়দের বক্তব্য, জাফর শাম ওরফে সানি (৩৪) প্রায় সাত বছর আগে হুগলির রিষড়ার সন্ধ্যাবাজার এলাকার গাঁধী সড়কের একটি টালির চালের বাড়িতে থাকত। পরিবারের দুই ভাই এবং দুই বোন রয়েছে। বাবা স্থানীয় জুটমিলে কাজ করত। বাড়িতে প্রোমোটিং হওয়ার পরে রিষড়া ছেড়ে তোপসিয়ায় বসবাস শুরু করে। সেখানে গিয়েই নিকাহ হয়। জাফরের সন্তানও রয়েছে। তোপসিয়ার গিয়ে তুলোর কাজ করত। যতদিন ওই এলাকায় থাকত তখন কোনও কাজ করত না। এলাকার লোকজনের সঙ্গে ভালো ভাবেই মেলামেশা করত।

রানা রাউফ ওরফে ওয়াহাব আলম কাঠমান্ডু থেকে ২০১৮ সালে কলকাতায় আসে। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার কার্ডও তৈরি করেছিল। তার জন্য ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। তবে রানার সঙ্গে কবে থেকে পরিচয় হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এসটিএফ সূত্রের খবর, রানার নেটওয়ার্কে কাজ করত এই জাফর শাম। মহম্মদ ইজাজ আলি এবং ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই জাফর আলির।

গত ১২ অগস্ট হাবড়া থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। ওই দিনই তোপসিয়া থেকে ইজাজ আলি নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইমরান হোসেন নামে এক যুবককে খোঁজ মেলে। গত সপ্তাহে ইমরানকে তোপসিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ইমরান রানাকে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। এসটিএফ সূত্রের খবর, ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই জাফরের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রতি এই মামলায় ধড়পাকড় শুরু হতেই জাফর তোপসিয়া থেকে পালিয়ে পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ জাফর তার পুরোনো এলাকায় যায়। সেখানে এসে ওয়াসিম আহমেদ ওরফে ভিকি নামে স্থানীয় চাবিওয়ালার কাছ থেকে মোবাইল ফোন চায়। বলে, তার মোবাইল ফোনে চার্জ নেই। তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই ফোন থেকে তোপসিয়ার স্ত্রীকে ফোন করে বলে, “বাচ্চাকে সামলে রাখিস। আর বাড়ি ফিরতে নাও পারি।” এর পরেই গলিতে জল খেতে যায়। সেখানেই জাফরের অপেক্ষা করছিল রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফের আধিকারিকেরা। জাফরকে রাস্তায় ধাওয়া করে পাকড়াও করে নিয়ে চলে যায় পুলিশ।

এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই জাফর শাম রানাকে নিজের বন্ধু পরিচয় দিয়ে হাওড়ার সালকিয়ার একটি কারখানায় কাজের ব‍্যবস্থা করে দিয়েছিল। পাশাপাশি ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতেও সাহায্য করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। রানার রউফের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। তার ভূমিকা কী ছিল তা জানতে হেফাজতে চায় এসটিএফ। বুধবার ধৃতকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশি হেফাজতে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


Share