Death

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হালিশহরের চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ, বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার টাকির উপপুরপ্রধান ফারুক গাজি

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং বসিরহাট পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে আটক করে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হালিশহর
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৭:৩১

তোলাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ভাই পাপন ঘোষও।

সোমবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে টাকি পুরসভার উপপুরপ্রধান ফারুক গাজিকে। তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং বসিরহাট পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) কর্নাটকের বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে আটক করে।

এ দিকে, সোমবার হালিশহর পুরসভায় কাজে যোগ দিতে গেলে শুভঙ্করের ভাই পাপন ঘোষকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, পুরসভার গেটে জড়ো হওয়া একদল বিজেপি কর্মী তাঁকে এবং তাঁর সহযোগী কুন্দন চক্রবর্তীকে মারধর করে। পরে পুলিশ পাপনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শুভঙ্কর ঘোষকেও থানায় তলব করা হয়। দীর্ঘ জেরার পর সোমবার রাতে দুই ভাইকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার আদালতে তোলার সময় শুভঙ্কর ঘোষ দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও পুলিশের দাবি, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে এই প্রথম কোনও পুরসভার চেয়ারম্যান গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা ঘটল।

অন্য দিকে, গ্রেফতার উপপুরপ্রধান ফারুক গাজিকে ট্রানজিট রিমান্ডে বেঙ্গালুরু থেকে হাসনাবাদে আনা হচ্ছে। বুধবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। কয়েক বছর আগেও তিনি হাসনাবাদ থানার পুলিশের গাড়িচালক ছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তৃণমূলে যোগ দেন ফারুক। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। টাকি পর্যটন কেন্দ্রে একাধিক ব্যবসার পাশাপাশি তিনি পুরসভার উপপুরপ্রধানের পদেও আসীন হন।

ফারুক গাজি ও কয়েকজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, অবৈধ পুকুর ভরাট, ইছামতী নদীর চরে বেআইনি নির্মাণ, আর্থিক দুর্নীতি, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি আদায় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠলেও এতদিন কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর রায়চৌধুরী ফারুক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাহানুর মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাহানুরের গ্রেফতারের পর থেকেই ফারুক এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দেন বলে পুলিশের দাবি। পরে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ বেঙ্গালুরু পুলিশের সহায়তায় একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগকারী প্রবীর রায়চৌধুরীর দাবি, 'আমার বাড়ির উপর দিয়ে রাতের অন্ধকারে গোরু পাচার করত ফারুক গাজি ও সাহানুর মণ্ডলের লোকজন। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে হুমকি দিয়ে জোর করে সই করিয়ে আমার জমি নিয়ে নেয় ফারুক ও তার দলবল। ওদের হুমকিতে আমাকে পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালাতে হয়।'


Share