Sand Smuggling

প্রয়োজন হলে বালি বিক্রি করবে রাজ‍্য সরকার! বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের কৃষক সভা থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বালি খাদান ঘিরে অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানোর বার্তা দেন। একই সঙ্গে সরকারি বালি ঘাট নিলাম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:১৫

বর্ষাকালে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বালি উত্তোলন বন্ধ থাকে। পুজোর পরে তা আবার খুলবে। বালি খাদান পরিচালনা, বেআইনি উত্তোলন বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে বালি পৌঁছে দিতে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের কৃষক সভা থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বালি খাদান ঘিরে অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানোর বার্তা দেন। একই সঙ্গে সরকারি বালি ঘাট নিলাম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বক্তব্য, সরকারি বালি ঘাটগুলির নিলাম হবে। সমান্তরাল ভাবে বেআইনি বালি ঘাটগুলিকে বন্ধ করতে প্রশাসনকে পদক্ষেপ করতে হবে। বালি উত্তোলন, পরিবহণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত অর্থ লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ আসলেই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন‍্য পুলিশকে নির্দেশ।

বালির পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় সাধারণ মানুষের পকেটে যথেষ্ট টান পড়েছে। এমন অনেক নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে বালির যোগানের অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বালির দাম কমানোর যে প্রশাসনিক দায়িত্ব সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা শাসককে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ যাতে তুলনামূলক কম দামে বালি পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার নিজেই বালি কিনে কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে সরবরাহ করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসকের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারকে বেআইনি বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে বেআইনি টোল প্লাজা তৈরি করে বেআইনি ভাবে বালি পাচার করতে গিয়ে দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড এবং গ্রেফতার করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোনও রকম বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।” পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতেও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি অক্টোবর থেকে বালি খাদান চালু হবে। এর ফলে বাজারে বালির আরও জোগান বাড়বে বলেই তিনি মনে করেন। তার ফলে দাম কমতে পারে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খাদান চালু হওয়ার পরও উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বেআইনি বালি উত্তোলনের ফলে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারি রাজস্ব সঠিক ভাবে আদায় হলে সেই অর্থ হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তা, কালভার্ট ও আবাসন-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বালি খাদানকে ঘিরে বেআইনি কারবার বন্ধের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে স্থানীয় স্তরে নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দেন তিনি। সরকারি দফতরে দুর্নীতি রুখতে বিএলআর অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, ট্রাফিক ও মোটর ভেহিকেল দফতরের কর্মীরা বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।


Share