Arrest TMC Leader

ভোটের পর থেকেই গা-ঢাকা! বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, জমি দখল থেকে হিন্দু মহিলাদের জোর করে বিয়ের অভিযোগে গ্রেফতার গোসাবার তৃণমূল নেতা ‘ঝড়ো’

তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তীর্ণ জমি দখল, কাটমানি আদায়-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, জোরপূর্বক হিন্দু মহিলাদের বিয়ে করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ও সহযোগী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোসাবা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩০

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন গোসাবার তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ‘ঝড়ো’। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী এই নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের কাছে তিনি ‘সন্দেশখালির শাহজাহান’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তীর্ণ জমি দখল, কাটমানি আদায়-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, জোরপূর্বক হিন্দু মহিলাদের বিয়ে করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান শুরু করে জীবনতলা থানার পুলিশ। খাগড়া গ্রামে হানা দিয়ে দীর্ঘদিনের পলাতক ও ‘ওয়ান্টেড’ অভিযুক্ত সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মনিরুল পৈলানকেও আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি বেআইনি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ। পরে ধৃতদের জীবনতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুক্রবার আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

ধৃত তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, গোসাবায় হিন্দু মহিলাদের জোর করে বিয়ে করতে বাধ্য করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর নামে রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। গোসাবায় প্রায় ৬৪ বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ বিঘা জমির উপর তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল বাগানবাড়ি এবং প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রয়েছে মাছের ভেড়ি। এ ছাড়াও গোসাবার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি এবং রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল পার্টি অফিস রয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু গ্রামীণ এলাকাই নয়, কলকাতা ও শহরতলিতেও তাঁর একাধিক বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি। সুবিদ আলি ঢালি বর্তমানে গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি, জোর করে ভেড়ি দখল, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকায় কাটমানি আদায়-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে এই সব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কী বক্তব্য, তা এখনও জানা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে অত্যাচার চালাতেন ওই তৃণমূল নেতা। তাঁদের দাবি, জীবনের শুরুতে ছাগল-মুরগি-সহ গৃহপালিত পশু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ, প্রভাব ও একাধিক দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন তিনি এবং গোসাবা এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করে কার্যত 'বেতাজ বাদশা' হয়ে ওঠেন।

এ ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হিন্দু মহিলাদের জোরপূর্বক বিয়ে করা, তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো এবং সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।


Share