Behrampore Accident

নেশাগ্রস্থ গেটম‍্যান, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সারাদিন কাজ করেন! রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর

কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভাবে রেলের গাফিলতি। যে গোটম‍্যান, সেই অপরাধী। সে নিজে একটা চুল্লুখোর। সারাদিন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকে। কোনও সতর্কতা অবলম্বন না করেই গেট খুলে দিয়েছে।”

বহরমপুরের ঘটনায় রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ কংগ্রেস নেতার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৪:২২

সকাল থেকে রাত নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকতেন বহরমপুরের রেল দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম‍্যান। এমনকী, পুলিশ পাকড়াও করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ঝুলে পড়েছিল অভিযুক্ত অনুপ কর্মকার। ঘটনার পরে স্থায়ীনেরা এমনটাই অভিযোগ করছেন। অন‍্য দিকে, বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। তিনি রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন।

কর্তব‍্যে গাফিলতির অভিযোগের গেটম‍্যান অনুপ কর্মকার। অনুপ কর্মকারকে সাসপেন্ড করেছে পূর্ব রেল। এর পাশাপাশি সিগন‍্যাল বিভাগের সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহরমপুর থানার পুলিশ অনুপকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গিয়েছে। ঘটনায় রেল এবং রাজ‍্য সরকার মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আহতদের সমস্ত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিপর্যয়ের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা রেলের ভূমিকা ও গেটম্যানের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন। অভিযোগ, গেটম্যানের অসতর্কতাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারও কারও আবার দাবি, গেটম্যান অনুপ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করেননি তিনি।

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে গেটম্যানের চরম উদাসীনতা রয়েছে। দৈনন্দিন মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে গেটম‍্যানের। এলাকার মানুষের দাবি, ধৃত গেটম্যান প্রতিদিন মদ ও গাঁজা খেয়ে কেবিনের ভেতরে বুঁদ হয়ে থাকতেন। প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থাতেই দিনের পর দিন ডিউটি করছিলেন। নেশার ঘোরে তিনি প্রায়ই লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করার পর তা পুনরায় খুলতে ভুলে যেতেন বলে অভিযোগ। যার ফলে লাইনের দু’পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকত। এর জেরে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত। এই বিষয়ে রেল প্রশাসনের কাছে একাধিক বার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়েরা।

স্থানীয়দের দাবি, ওই গেটম্যান শুক্রবারও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। সেই কারণে রেললাইন ধরে ট্রেন আসার সময়েও লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। যার পরিণতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বহরমপুর থানার পুলিশ যখন অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিয়ে থানায় যাচ্ছিল, তখনও তাঁর আচরণে স্পষ্ট ছিল যে, তিনি নেশার ঘোরে রয়েছেন।

ঘটনার পরে বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে। কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভাবে রেলের গাফিলতি। যে গোটম‍্যান, সেই অপরাধী। সে নিজে একটা চুল্লুখোর। সারাদিন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় থাকে। কোনও সতর্কতা অবলম্বন না করেই গেট খুলে দিয়েছে। সে নিজের কর্তব‍্য পালন করেনি। আমি রেলমন্ত্রীর অশ্বীনি বৈষ্ণবের সাথে কথা বলছি। তিনি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।”

ঘটনায় অধীর কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি, হাইড্রোজেন ট্রেন চলছে। সাধারণ পরিকাঠামো গড়ে রাখা হয়নি। তাঁকে (অভিযুক্ত গেটম‍্যান) কী তৃতীয় পক্ষ থেকে আনা হয়েছে। তা প্রশ্ন জাগছে। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। এর জন‍্য এত বাচ্চার প্রাণ গেল তা দেখা উচিত। এখানে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়ন দরকার।” ওই এলাকায় একটি আন্ডারপাসের তৈরি করারও দাবি জানান তিনি।

পূর্ব রেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাত্রীসুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলা হয়। দুর্ঘটনা ঠিক কী কারণে ঘটল, ম্যানুয়ালি চালনা করা ওই ইন্টারলকিং গেটের দায়িত্বে থাকা কর্মী তখন কোথায় ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে হাওড়া স্টেশন থেকে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।


Share