Swasthya Sathi Card Scame

মাঠে কর্মরত বৃদ্ধের মোবাইলে এল ‘অপারেশন সাকসেসফুল’ মেসেজ! স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেও জালিয়াতি, গ্রেফতার নার্সিংহোম মালিক

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকা ওই নার্সিংহোমের নামেই সরকারি প্রকল্প থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা হয়েছে।

বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে সত্তার আলীর ফোনে মেসেজ আসে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৮:২৬

মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন বৃদ্ধ। নাম সত্তার আলী। হঠাৎ মোবাইলে একটি বার্তা আসে। বার্তাটি হল- ‘আপনার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে’। অথচ তিনি তখন মাঠে কাজ করছেন। ঘটনায় তিনি হতবাক হয়ে যান। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপরই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে কেন্দ্র করে বড়সড় প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার করিমপুর থানার কিশোরপুর এলাকার বাসিন্দা সত্তার আলী। তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন আগে চারজন মহিলা যান। তাঁরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে আয়ুষ্মান কার্ডে রূপান্তর করার কথা বলেন। তাঁরা কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথি- সহ কিছুক্ষণের জন্য মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এরপর সেগুলি ফেরত দিয়ে চলে যান।

সোমবার সকালে সত্তার আলী মাঠে কাজ করছিলেন। সেই সময় তাঁর মোবাইলে একটি বার্তা আসে। পাশের এক যুবককে তিনি মেসেজটি দেখান। তাঁর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, মেসেজে লেখা রয়েছে তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। বিষয়টি তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি।  বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেসেজটি নিয়ে আলোচনা করেন। তখনই জানা যায়, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি ও অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে বলে দেখিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে কয়েক হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।

এরপর কয়েকজন প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে সত্তার আলী তেহট্ট থানার নাজিরপুর এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ছুটে যান। অভিযোগ, প্রথমে বিষয়টি নার্সিংহোমের তরফে অস্বীকার করা হয়। পরে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতে বৃদ্ধ রাজি হন নি। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। তদন্ত শুরু করে। ঘটনায় নার্সিংহোমের মালিককে গ্রেফতার করা হয়। গোটা নার্সিংহোম তল্লাশি চালানো হয়। নার্সিংহোমের অফিস থেকে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এবং বিভিন্ন নথি উদ্ধার হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা চলছিল। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমটি প্রায় এক বছর ধরে কার্যত বন্ধ। তবুও চলতি আর্থিক বছরে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা তোলা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুকদেব বিশ্বাস বলেন, “এই নার্সিংহোমে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। বহুবার প্রতিবাদ করেও কোনও লাভ হয়নি। এবার প্রমাণ-সহ অভিযোগ করার পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

প্রতারিত বৃদ্ধ সত্তার আলী জানান, “মোবাইলে দেখাচ্ছে আমার অপারেশন হয়েছে, অথচ আমি তখন মাঠে কাজ করছি। আমরা সাধারণ মানুষ, এসব বুঝি না। আমাদের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে। তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”

এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডগুলি পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


Share