Accident

সতর্কতা প্রদানের মধ্যেও বিপত্তি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বজ্রপাতে প্রাণ গেল পাঁচ জনের, আহত তিনজন

পশ্চিম মেদিনীপুরে চারজন এবং ঝাড়গ্রামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। খোলা মাঠে কাজ না করার আবেদন জানিয়ে আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১০

দক্ষিণবঙ্গে চলছে টানা বৃষ্টি। সঙ্গে বজ্রপাতেরও কমতি নেই। বুধবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাতে পশ্চিম মেদিনীপুরে চারজন এবং ঝাড়গ্রামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরে মৃত চারজনের মধ্যে তিনজনই মহিলা। তাঁদের নাম কাজল নায়েক (৬৫), মালতী পাত্র (৪৭), সুমিত্রা খামরুই (৫০) এবং তাপস সাবড়া (৫০)। কাজল নায়েক ও মালতী পাত্রের বাড়ি ডেবরা থানার রাধামোহনপুর গ্রামে। তাপস সাবড়ার বাড়ি নারায়ণগড় থানার ঠেঙ্গামারা গ্রামে। সুমিত্রা খামরুই খড়্গপুর লোকাল থানার বরগাই গ্রামের বাসিন্দা।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছিল। পূর্বাভাসে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল। সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের পর শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। তার সঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাত।

বর্তমানে ধানের বীজতলা পোঁতার কাজ চলছে। ফলত বহু কৃষিশ্রমিক মাঠের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ডেবরার রাধামোহনপুরে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন কাজল নায়েক ও মালতী পাত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দু'জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অন্য দিকে, বিকেলে নারায়ণগড় থানার ঠেঙ্গামারা গ্রামের বাসিন্দা তাপস সাবড়া মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে মকরামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ দিন খড়্গপুর লোকাল থানার বড়কলা পঞ্চায়েতের বরগাই গ্রামের বাসিন্দা সুমিত্রা খামরুইও মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আবার, ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম থানার বড়খাঁকড়ি গ্রামেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় এক তরুণের। মৃতের নাম চাঁদরায় মুর্মু (১৯)। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার খারাপ আবহাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়। সেই সময় খোলা মাঠে কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবুও কৃষিকাজের ব্যস্ততার মধ্যেই ঘটনাগুলি ঘটেছে। বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।


Share