Arrest

গাড়ির পর এ বার বিশ্বজিতের বাড়ির বাগানেও বন্দুক-গুলি! গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়কের গাড়িচালক

বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর গাড়িচালককে মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। দু’জনকেই সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালনগর
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫৭

প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর এ বার তাঁর বাড়ির বাগান থেকেও মিলল আরও একটি দেশি বন্দুক এবং এক রাউন্ড গুলি। এই ঘটনায় বিশ্বজিতের গাড়িচালক কেরামত মণ্ডলকেও গ্রেফতার করেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার পুলিশ। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর গাড়িচালককে মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। দু’জনকেই সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সোমবার রাতে বিশ্বজিতের বাড়ির পিছনের বাগানে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য মেলে। এরপর তদন্তকারীরা সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশি বন্দুক এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন। পুলিশের দাবি, বিশ্বজিৎকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কেরামত তাঁর গাড়ি নিয়ে বাড়িতে চলে যান। দ্রুত বাড়ির তালা খুলে ভিতরে ঢোকার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে আসেন তিনি। তাঁর এই আচরণেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিশ্বজিতের গাড়ির ড্যাশবোর্ডে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি রাখা ছিল। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর কেরামত সেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়ে বাড়ির পিছনের বাগানে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। জিজ্ঞাসাবাদে কেরামত বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির উৎস এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস একসময় তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি ছিলেন। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন তিনি। বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।


Share