Allegation On BJP

‘আমাদের লোকেরাই কাজ করবে,’ দমদমের সার কারখানার ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের দলবলের বিরুদ্ধে, বন্ধ হল উৎপাদন

সার কারখানার মালিকের আরও অভিযোগ, এই ঝামেলা কিছু ক্ষণ চলার পরে কারখানার ম‍্যানেজার কে স্থানীয় বিজেপির বিধায়কের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তার পরেই স্থানীয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের জন‍্য মোটা টাকা চাওয়া হয়। ফোনে যাতে কোনও কিছু রেকর্ড না থাকে তার জন‍্য মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সার কারখানায় ঢুকে দাদাগিরির অভিযোগ বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর দলবলের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২৩

কারখানায় স্থানীয় বিজেপির কর্মীরাই কাজ করবে। পুরনো যে সমস্ত কর্মীরা কাজ করছেন, তাঁদের আর কাজে রাখা যাবে না। এই সমস্ত দাবি নিয়ে দমদমের সারের কারখানায় ঢুকে রীতিমতো তান্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর দলবলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ওই সারের কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কর্মরত শ্রমিকেরা কারখানা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর দলবলেরা কারখানার ম‍্যানেজার-সহ কয়েক জনকে দলীয় কার্যালয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও কারখানার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এ যেন তৃণমূল জমানার পুনরাবৃত্তি বলেই কেউ কেউ দাবি করছেন।

গত শনিবার বিকেলে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ইস্টার্ন অর্গানিক ফার্টিলাইজার নামে একটি সারের কারখানায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ তাপস দে নামে এক বিজেপি কর্মী সারের কারখানায় আসেন। এসে কারখানার সুপারভাইজার রীতেশ আগরওয়ালের কাছ থেকে দু’হাজার টাকা দাবি করেন। নিজের অ‍্যাকাউন্টেই সেই টাকা নিতে চান। দাবি করা টাকা না দিতে চাইলে তাপস ফোন করে দলবল ডাকেন। তাপস এলাকার বিজেপি কর্মী বলেই জানা গিয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এর পরেই ৪০-৫০ জনের একটি দল কারখানার মধ্যে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ, তাঁরা জোরপূর্বক ভিতরে ঢুকে পড়েন। ঢুকে কারখানার সুপারভাইজার রীতেশ আগরওয়াল, কারখানার দুই কর্মী রোহিত সিংহ এবং সুজন সমাদ্দারকে মারধর করে। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, এই কারখানায় আগে যাঁরা কাজ করত তাঁদের আর রাখা যাবে না। দলবলে থাকা সুরঞ্জন মজুমদার, বিশ্বজিৎ হালদার, সন্তু সাহা, তাপস দে, স্বপন দাস, রতন সাউ, স্বপন শিকদারেরা নিজেদের দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন। বিধায়কের নির্দেশেই তাঁরা কারখানায় এসেছেন বলে দাবি করেন। তাঁরা এ-ও দাবি করেন, কারখানার যতগুলি ডাম্পার চলে তা তাঁদের লোকেদের দিয়েই চালাতে হবে। কারখানার যে নির্মাণকাজ চলছে তার জন‍্য সামগ্রী তাঁদের কাছ থেকেই নিতে হবে বলে দাবি করেন।

সার কারখানার মালিকের আরও অভিযোগ, এই ঝামেলা কিছু ক্ষণ চলার পরে কারখানার ম‍্যানেজারকে স্থানীয় বিজেপির বিধায়কের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তার পরেই স্থানীয় মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের জন‍্য মোটা টাকা চাওয়া হয়। ফোনে যাতে কোনও কিছু রেকর্ড না থাকে তার জন‍্য মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে যে কারখানায় ঘটনাটি ঘটেছে তা রাজ্য সরকারের কাছ জমি লিজ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, দমদম, বরাহনগর এবং উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভা জঞ্জাল ফেলা হয়। তা দিয়েই কারখানাটি সার উৎপাদনের কাজ করে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প ‘স্বচ্ছ ভারত মিশনের’ আওতায় এই প্রকল্পটি চলে। মালিকের দাবি, সেখানে বেশির ভাগ কর্মীই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছিল। তাঁরা সবাই চলে গিয়েছে। আপাতত কারখানাটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে মালিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দমদমের বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। ঘটনার পরে অরিজিতের সাফাই, “যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি।”অরিজিতের বক্তব্য, তাঁর অনেক অফিস রয়েছে। কারখানা থেকে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিছু হলেই নাকি বিজেপির নাম জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে বিজেপি বিধায়ক দাবি করেন। তবে ঘটনায় যদি বিজেপি জড়িত না থাকে তা হলে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কি না তা নিয়ে বিধায়ক কেন সাফাই দিচ্ছেন, প্রশ্ন উঠছে।

শিল্পের খড়া কাটাতে একদিকে যেমন প্রচার চলছে এক দিকে তোলাবাজির কারনে কারখানায় তালা পড়ছে। তবে অরিজিৎ বক্সীর দলবলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। তোলাবাজির অভিযোগে দমদমের বিজেপি বিধায়ককে সতর্ক হতেও নির্দেশ দিয়েছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু কোনও পরিবর্তন তো দূরের কথা দমদম বিধানসভা এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ এখনও বিরাজ করছে বলে কেউ কেউ দাবি করছে। রাজ‍্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুন্ডা দমন আইন চালু হয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, তা হলে বিজেপি আশ্রিত এই দুষ্কৃতীদের কী সেই আইনের অধীনে থাকা ধারায় আনা হোক।


Share