Eid

রেড রোডের পর এবার পান্ডুয়া, বহু বছরের প্রথা ভেঙে রাস্তায় নয় মাদ্রাসা মাঠেই হল ঈদের নামাজ পাঠ

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে হাজী কামরুল হুদা জানান, “যদি রেড রোডের নামাজেও পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরা স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের কেউ বাধা দেয়নি।।”

মাদ্রাসার মাঠেই অনুষ্ঠিত হলো ঈদ উল আযহার নামাজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, Hooghly
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১১:৪৭

রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। সাথে বাজার-হাটের চিত্রেও পরিবর্তন হয়েছে। এবার উৎসব পালনের ক্ষেত্রেও ভিন্ন ছবি দৃশ্যমান। হুগলির পান্ডুয়ায় ঈদের নামাজে পরিবর্তন চিত্র। বহু বছরের প্রথা ভাঙ্গা হল। এবার আর জি টি রোড দখল করে নয়।  মাদ্রাসার মাঠেই অনুষ্ঠিত হলো ঈদ উল আযহার নামাজ। ফলে যান চলাচল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল।

প্রতি বছরই হুগলির পান্ডুয়ার কলবাজার এলাকায় জি টি রোডের উপর বৃহৎ পরিসরে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হতো। রেড রোডের পর রাজ্যের অন্যতম বড় ঈদের জামাত হিসেবেই এই নামাজ পরিচিত ছিল। “ঈদ উল ফিতর” হোক কিংবা “ঈদ উল আযহা”, কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানুষ সেখানে অংশ নিতেন।

তবে এবছর সেই চিত্রে বদল এসেছে। পান্ডুয়ার দারুল উলুম মাদ্রাসার ভিতরের মাঠেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সেখানে বহু মানুষ ভিড় জমান। শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ পাঠ সম্পন্ন হয়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় হুগলি গ্রামীণ পুলিশের আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে হাজী কামরুল হুদা জানান, রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। সেই কারণেই উদ্যোক্তারা স্বেচ্ছায় প্রশাসনের কাছে মাদ্রাসার ভিতরে নামাজ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

তিনি আরও বলেন, “আগে কলকাতায় ব্রিগেড ময়দানে ঈদের নামাজ হতো। এক বছর বৃষ্টিতে মাঠ কাদায় ভরে যাওয়ার পর থেকেই রেড রোডে নামাজ শুরু হয়। এবার যদি রেড রোডের নামাজেও পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরা স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের কেউ বাধা দেয়নি। ভবিষ্যতেও আর রাস্তায় নামাজ করা হবে না।”

এদিনের এই উদ্যোগকে ঘিরে এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই মনে করছেন, রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ আগামী দিনে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।


Share