ED Raid

অনুপ্রবেশে ইন্ধন, রাজ‍্য জুড়ে আর্থিক তছরুপের মামলায় তল্লাশিতে উদ্ধার লক্ষাধিক টাকা, দাবি ইডির

বৃহস্পতিবার রাজ‍্য জুড়ে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু ডিভাইস এবং ব‍্যাঙ্কের নথি বাজেয়াপ্ত করে ইডির আধিকারিকেরা নিয়ে গিয়েছেন।

উদ্ধার লক্ষাধিক টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫৮

মাদ্রাসা এবং সেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তার জন‍্য বিদেশ থেকে এসেছে অর্থ। সেই অর্থ অনুপ্রবেশকারীদের পুনর্বাসনের দেওয়ার জন্য কাজে লেগেছে। বৃহস্পতিবার রাজ‍্য জুড়ে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু ডিভাইস এবং ব‍্যাঙ্কের নথি বাজেয়াপ্ত করে ইডির আধিকারিকেরা নিয়ে গিয়েছেন।

সেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ‍্যে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে এমন অভিযোগ গত ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের জঙ্গি দমন শাখা একটি এফআইআর করে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে কয়েক দিন আগে বনগাঁর বিজেপি নেতা বিক্রম রায়কে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গতকালও বিজেপি নেতা বিক্রমের বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, এই চক্রটি জাল নথি প্রস্তুত, মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং জাল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদেশি অনুদান গ্রহণ করেছে। ওই সেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে এফসিআরএ লাইসেন্স রয়েছে। যে টাকা বিদেশ থেকে এসেছে সেই টাকা একাধিক স্তরে ভাগ করে ভাগ করা হয়েছে। তার জন‍্য একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব‍্যবহার করা হয়েছে। ছোট ছোট কিস্তিতে টাকা বিভিন্ন লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা বেআইনি কার্যকলাপের ব‍্যবহার করা হয়েছে।

ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই টাকার কোথা থেকে এসেছে তার কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেনি। এ ছাড়াও, ১৮০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যাঙ্ক রেকর্ড-সহ বেশ কিছু চিরকুট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকালে দেশ জুড়ে ১৬টি জায়গায় তল্লাশি ইডি চালায়। কলকাতা, হাড়োয়া, হাসনাবাদ, মুর্শিদাবাদ মিলিয়ে চার জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদের রামেশ্বরপুরের দার-উল উলুম মাদ্রাসায় তাঁরা তল্লাশি চালান। স্থানীয় সূত্রের খবর, তৃণমূল নেতা আবদুল্লাহ গাজি ও তাঁর ছেলে ওই মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইডি সেখানে পৌঁছোতেই দু’জনই পলাতক বলে দাবি করা হয়। অপর দিকে, হাড়োয়াতেও তল্লাশি চলছে। সেখানকার তিন জায়গায় ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে।জানা গিয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তদন্তে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যবসায়ীর বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসার তল্লাশি চালানো হয়। বনগাঁর বিজেপি নেতা বিক্রম রায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চলে।


Share