ED Raid

চিটফান্ড খুলে কোটি টাকা আর্থিক তছরুপ! হুগলি, নদিয়া-সহ ১০টি জায়গায় চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং দুর্গাপুরে মোট ১০টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চলছে। তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা রয়েছে। তাঁরা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

কালীনারায়ণপুরে চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ ০৩:০৯

যত বিনিয়োগ, তত মুনাফা। ব‍্যাঙ্কের থেকেও সুদের হার বেশি। প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছে চিটফান্ড সংস্থা। সেই টাকা কোথায় গেল তা খুঁজতে সকাল থেকেই মাঠে নেমে পড়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং দুর্গাপুরের মোট ১০টি ঠিকানায় ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ইডি সূত্রের খবর, জারাডোবিট ই-টেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং জারাডোবিট ই-শপার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি চিটফান্ড সংস্থার মালিকের বাড়ি এবং দফতরের ইডির আধিকারিকেরা পৌঁছে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং দুর্গাপুরে মোট ১০টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চলছে। জারাডোবিট ই-টেক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিটি মুম্বইয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। জারাডোবিট ই-শপার্স প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিটি কলকাতায় রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। দু’টি চিটফান্ড কোম্পানির মালিক সৌরভ চট্টপাধ‍্যায় এবং সুভাষ চক্রবর্তী। গত ২০২২ সালে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, গত বছর কালীঘাটের এক মহিলা হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি ২৫ মাস ধরে ধাপে ধাপে ২০ কোটি টাকা এই জারাডোবিট নামে সংস্থায় লগ্নি করেছিলেন। চুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লগ্নি করলে, পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাবে। এমনকী, মূলধনের পাঁচ শতাংশ মিলবে। প্রলোভনে পড়ে টাকা লগ্নি করলেও তিনি কোনও টাকা ফেরত পাননি। এমন অভিযোগ বাকি জেলাগুলিতে হয়। সেই সমস্ত অভিযোগ একত্রিত করে ইডি ইসিআইআর দায়ের করে।

ইডি সূত্রের খবর, ১০ বা ২০ কোটি নয়, ১০০ কোটি টাকার বেশি এই চিটফান্ড সংস্থা বাজার থেকে তুলেছে। সেই টাকা বাজার থেকে তুলে নির্মাণ ব‍্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছে। বিদেশেও টাকা পাচার করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার অব কোম্পানির তথ‍্য অনুযায়ী ২০২২ সালে এই সংস্থাটি গড়া হয়েছে। মূলত তৃণমূল তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরেই এই সংস্থাটি কাজ করা শুরু করে। টাকা প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলেও ইডি মনে করছে। প্রোটেকশন মানি হিসেবে কাউকে দেওয়া হয়েছিল কি না তা তদন্ত করে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। 

টাকার উৎস খুঁজতে সকালে হুগলির শেওড়াফুলি চারাবাগান এলাকায় পল্টু বড়ালের বাড়িতে ইডি অভিযান চালায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, খড়্গপুরে এই চিটফান্ড কোম্পানির এজেন্ট ছিল। হাওড়াতে এই জারাডোবিট সংস্থার মালিকের বাড়িতে ইডি পৌঁছে গিয়েছে। 

অন‍্য দিকে, নদিয়ার কালীনারায়ণপুরে চিটফান্ড সংক্রান্ত তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকেরা পৌঁছে গিয়েছেন। পাঁচজন ইডি আধিকারিক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। সেখানে শুভ্রকান্তি নাগ নামে এক ব্যবসায়ী বাড়িতে তাঁরা গিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীনারায়ণপুর এলাকায় শুভ্রকান্তি নাগের দু’টি বাড়ি রয়েছে। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি অফিস রয়েছে তাঁর। তবে অভিযানের সময় বাড়িটি ফাঁকাই ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই শুভ্রকান্তি নাগ পলাতক বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ, ‘প্রফিট অ্যাক্সিস’-সহ একাধিক সংস্থার নামে শেয়ার বাজারে লগ্নির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ‘প্রফিট অ্যাক্সিস’-এর অফিসে সিল করে দেওয়া হয়েছিল।


Share