Durga Puja

নবপ্রজন্মের মন টানতে দুর্গাপুজোর থিম ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’, নিউ টাউনের পুজো কমিটির মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত

সুব্রত গুপ্ত বলেন, “আগে কী হয়নি তা বলা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবার সহযোগিতায় লাগে। তাতে কিছু সমস‍্যা ছিল। মিটে গিয়েছে। তাই এ বারে পুজো করা সম্ভব হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৪

হিন্দু ধর্মের প্রচার এবং সেই সঙ্গে নবপ্রজন্মের মন টানতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে নিউ টাউনের সনাতনী দুর্গাপুজো। এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত। তিনি বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, প্রাচীন হিন্দু ধর্মের গুরুত্ব, বিজ্ঞানের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক রয়েছে, তা এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীও করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে নিউ টাউনের সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটির তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেই হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। গত ২০২২ সালে এই দুর্গাপুজো শেষবার হয়েছিল। তার পর থেকে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। চার বছর পরে এই দুর্গাপুজো আবার শুরু হতে চলেছে। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসারের উদ‍্যোগেই এই পুজো আবার হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে।

চার বছর কেন পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা নিয়ে বিগত সরকারের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন সুব্রত গুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজো করতে গেলে সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। পুলিশের সাহায্য লাগে। তা না থাকায় এই চার বছর দুর্গাপুজো করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই সমস্যা মিটে গিয়েছে। মিটে যাওয়ার আবার পুজো এ বছর থেকে শুরু হয়ে যাবে। বিশ্ববাংলা গেটের কাছে এই দুর্গাপুজো হবে। এই নিয়ে এই পুজো তৃতীয়বর্ষে পড়ল। তিনি বলেন, “আগে কী হয়নি তা বলা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবার সহযোগিতায় লাগে। তাতে কিছু সমস‍্যা ছিল। মিটে গিয়েছে। তাই এ বারে পুজো করা সম্ভব হবে।”

দুর্গাপূজোতে কী থিম হচ্ছে তা নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে একটা বিশেষ আগ্রহ থাকে। তাঁর কথায়, শহরে অনেক বড় দুর্গাপুজো হয়ে থাকে। আলোক সজ্জারও বাহার দেখা যায়। তবে এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে— ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান।’ পুজো কমিটি সূত্রের খবর, নবপ্রজন্মের মন জয় করতে একদিকে হিন্দু ধর্মের গুরুত্ব অন‍্য দিকে প্রাচীন বিজ্ঞানে হিন্দু ধর্মের কী গুরুত্ব ছিল এবং তা থেকে আধুনিক দিনে কী ভাবে পৌঁছোল তার দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত বলেন, দুর্গাপুজো একেবারেই হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি মেনেই করা হবে। প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান এবং আধুনিকতর সাথে কী আছে তার প্রদর্শন হবে। বর্তমানে অনেক প্রযুক্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন প্রযুক্তি পশ্চিমের। আমার দেশের অনেক ঋষিরা ছিলেন। সনাতন ধর্ম থেকেই শূণ‍্যের ধারণা হয়েছিল। ডেসিমেলের উদ্ভব হয়েছিল। পৃথিবীতে তাঁরা উপহার দিয়েছিল। তার পরে পশ্চিমের বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে কাজ করেছেন।”

তিনি মনে করেন, পুজোর থিম পশ্চিমের বিজ্ঞানের সঙ্গে এটা কোনও সংঘাতের যায়গা নেই। এই থিম ভারতকেই তুলে ধরা প্রধান লক্ষ্য। সুব্রত গুপ্ত বলেন, “প্রাচীন যোজ্ঞবেদী তৈরী করতে যে মাপ লাগে তা গাণিতিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছিল।আয়ুরবেদের কীভাবে প্রসার হয়েছিল তা তখনই হয়েছিল।”

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানের প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। ইসরোর সাথে মিলে একটি প্রদর্শনীটি হবে। ১৩ অক্টোবর মন্ডপ খুলবে। মহাকাশ গবেষণা নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রদর্শনী হবে। বিড়লা প্লানেটরিয়ামের আদলে তৈরী হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, “বিজ্ঞানের প্রসারের জন‍্য রাজ‍্য সরকারও ঘোষণা করেছে। তা করতে গিয়ে ধর্মীয় পরিবেশ কোনও ভাবেই নষ্ট করা হবে না। ধর্মীয় আচার মেনেই পুজো করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বে শান্তির জন‍্যই যোজ্ঞ করব। দেশের বিভিন্ন রাজ‍্যের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষদের আনা হবে।”

নবপ্রজন্মের মনকে আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কমিটি দাবি করেছে। তাঁরা মনে করছেন, বিভিন্ন কারণে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। দেশে বিজ্ঞানের প্রসার যে ভাবে ঘটছে তা যেমন নবপ্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে অপর দিকে, ইতিহাসের গুরুত্বকেও এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।


Share